৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জাতীয় সমঝোতা হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। রাজধানীতে আয়োজিত 'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬'-এর এক অধিবেশনে তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিচার সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল প্রকৃত সমঝোতার প্রশ্ন আসতে পারে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রাজধানীতে অনুষ্ঠিত 'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬'-এর 'বিচার, জবাবদিহিতা ও জাতীয় সমঝোতা' শীর্ষক বিশেষ অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
- ডেপুটি স্পিকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ৫ আগস্টের ক্ষমতাচ্যুত ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের জাতীয় সমঝোতার অবকাশ নেই এবং তারা রাজনৈতিক ভবিষ্যতের যোগ্যতা হারিয়েছে।
- অধিবেশনে ভারতের রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক করোরি সিং, দক্ষিণ আফ্রিকার উইটস ইউনিভার্সিটির গবেষক মাদালিতসো জিলিলো ফিরি এবং কলম্বিয়ার সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিকি সিঙ্গারসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে ক্ষমতাচ্যুত এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জাতীয় সমঝোতা হতে পারে না বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সোমবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন 'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬'-এর 'বিচার, জবাবদিহিতা ও জাতীয় সমঝোতা' শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে এই সুনির্দিষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের স্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে বিগত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।
ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্যে আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনি পরিণতি থেকে রক্ষা করার যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা বা ষড়যন্ত্রই জাতীয় সমঝোতা প্রক্রিয়ার প্রধান অন্তরায়। অতীতের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা এবং জনগণের সুরক্ষার জন্য গড়া রাষ্ট্রযন্ত্রকে যারা ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল, তাদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। রাজনৈতিক ও বিচারিক কাঠামোগুলোকে এমনভাবে সংস্কার করতে হবে যাতে তা শাসকগোষ্ঠীর তোষণ না করে সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে পারে। উত্তর আয়ারল্যান্ড, কলম্বিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহাসিক শান্তি প্রক্রিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
অধিবেশনে আমন্ত্রিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর ও বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। সাউথ এশিয়া স্টাডিজ সেন্টার ইউনিভার্সিটি অব রাজস্থান, ভারতের অধ্যাপক করোরি সিং তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, সরকারি পদ ও ক্ষমতাকে জনগণের পবিত্র আমানত হিসেবে দেখতে হবে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার উইটস ইউনিভার্সিটির গবেষক মাদালিতসো জিলিলো ফিরি উল্লেখ করেন যে, যেকোনো ধরনের ন্যায়বিচার ও জাতীয় সমঝোতার আলোচনা সফল করতে হলে অতীত থেকে বয়ে চলা জাতিগত, ভৌগোলিক ও লিঙ্গভিত্তিক কাঠামোগত বৈষম্যগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে সমাধান করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চিরতরে দূর করা এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি মজবুত করার ক্ষেত্রে এই আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে টেকসই গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। ডেপুটি স্পিকারের এই কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা প্রমাণ করে যে, বিগত স্বৈরাচারের দোসরদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই এবং জনগণের রক্তে অর্জিত নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে অপরাধের ন্যায়বিচারই হবে মূল অগ্রাধিকার।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bangla.thedailystar.net-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।