পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে ১৫ হাজার ২১৩ জন বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে সৌদি আরবে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০, মালয়েশিয়ায় ২ হাজার ২১৭ এবং ভারতে ১ হাজার ৪৪৪ জন আটক রয়েছেন। আইনি সহায়তা ও কূটনৈতিক তৎপরতার অভাবে এসব প্রবাসীদের পরিবার চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৩০ সেপ্টেম্বরের ডেটাবেজ ও সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের কারাগারে ১৫ হাজার ২১৩ জন বাংলাদেশি বন্দি আছেন, যার মধ্যে শুধু সৌদি আরবস্থ কারাগারে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ জন আটক রয়েছেন।
- মালয়েশিয়ায় ২ হাজার ২১৭ জন এবং ভারতে ১ হাজার ৪৪৪ জন বাংলাদেশি বন্দি হিসেবে বিভিন্ন কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন, যাদের বড় একটি অংশ ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক হয়েছেন।
- বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় কনস্যুলার সহায়তা ও আইনি ফলোআপের ঘাটতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে ১৫ হাজার ২১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বন্দি রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে, যেখানে সংখ্যাটি প্রায় ৭ হাজার ৫০০। এছাড়া মালয়েশিয়ায় ২ হাজার ২১৭ জন, ভারতে ১ হাজার ৪৪৪ জন, দুবাইয়ে ৭৪০ জন, ওমানে ৪০০ জন, লিবিয়ায় ৩১৪ জন, গ্রিসে ৩০৭ জন, কুয়েতে ২৯৬ জন, ভিয়েতনামে ২৫০ জন এবং থাইল্যান্ডে ১২৭ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন কারাগারে বা আটক কেন্দ্রে বন্দি আছেন। এসব বন্দিদের একটি বড় অংশ গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও অনেকে কেবল ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া কিংবা বৈধ নথিপত্রের অভাবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক হয়েছেন।
বিদেশে বন্দি থাকা স্বজনদের তথ্য সংগ্রহ, আইনি সহায়তা পাওয়া এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। থাইল্যান্ডের একটি কারাগারে বন্দি আমজাদ হোসেনের স্ত্রী সুমনা আক্তার অভিযোগ করেন, স্বামীকে দেশে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই মাস আগে আবেদন করলেও তিনি কোনো আশাব্যঞ্জক তথ্য পাননি। রাজবাড়ীর এই পরিবারটি জানায়, আমজাদ পাচারের শিকার হয়ে লাওস ও কম্বোডিয়া ঘুরে থাইল্যান্ডের কারাগারে পৌঁছান। একইভাবে সৌদি আরবের কারাগারে ৯ মাস বন্দি থাকা সিলেটের তিন ভাই জানান, রিয়াদে একটি প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং মিশন কর্মকর্তাদের কাছে বারবার যোগাযোগ করেও তারা প্রয়োজনীয় আইনি বা কনস্যুলার সহায়তা পাননি। এমনকি মুক্তির পরও তাদের নিজেদের উদ্যোগে ৬ হাজার সৌদি রিয়াল জোগাড় করে দেশে ফিরতে হয়েছে।
গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর প্রবাসীদের কনস্যুলার সহায়তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের একটি গোপনীয় স্মারক থেকে জানা যায়, ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া বন্দিদের তালিকায় নাম থাকলেও তাদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ ছিল না এবং সৌদি কর্তৃপক্ষও রায় কার্যকরের আগে তা মিশনকে জানায়নি। এর ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের দুই সপ্তাহে সাজাপ্রাপ্তদের আইনি অবস্থা নিয়ে মিশনের ভূমিকা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ। তবে সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোর দাবি, তারা নিয়মিত কারাগার পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বন্দিদের আইনি সহায়তা ও দেশে ফেরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিদেশের কারাগারে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির বন্দি থাকা এবং তাদের আইনি সহায়তায় ঘাটতির বিষয়টি দেশের শ্রমবাজার ও সামগ্রিক অভিবাসন খাতের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে আরও বেশি সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হতে হবে যাতে প্রবাসীরা যেকোনো বিপদে দ্রুত কূটনৈতিক ও আইনি সহায়তা পান। একই সঙ্গে মানবপাচার রোধ এবং প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, যা হাজার হাজার প্রবাসী পরিবারকে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।