ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুকে লাইভ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সরকারের সমালোচনা করায় বিউটি পার্লার মালিক সাথী আক্তারকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ২৪ হাজার টাকার তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লাইভ করার পর স্থানীয়দের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং বুধবার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় নিজের বিউটি পার্লারের ২৪ হাজার টাকার বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবারের ফেসবুকে দুটি লাইভ ভিডিও করেন নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তার।
- লাইভে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বর্তমান সরকারের সমালোচনা করার জেরে তার পার্লারের সামনে স্থানীয়রা ও মার্কেট মালিক সমিতির লোকজন জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানান।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও বড় ধরনের সংঘর্ষ বা সড়ক অবরোধ এড়াতে পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার রাতে আদালতে সোপর্দ করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার একটি মার্কেটে বিউটি পার্লারের মালিক সাথী আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার তার দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক ২৪ হাজার টাকার বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর তিনি দুটি আলাদা লাইভ ভিডিওতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ভিডিওগুলোতে সাথী আক্তার দাবি করেন, চুরি-ডাকাতির কারণে রাতে কেউ নিরাপদ নয় এবং তিনি ২০২৬ সালে বর্তমান সরকারকে ভোট দিয়ে মারাত্মকভাবে ভুক্তভোগী হয়েছেন। তার এই ফেসবুক লাইভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর রবিবারে রাতে তার পার্লারের সামনে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষ ও মার্কেট মালিক সমিতির লোকজন জমায়েত হন। সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা দ্রুত আরও ঘনীভূত হতে থাকে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, শুধুমাত্র ভিডিও প্রচারের জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়নি, বরং ঘটনাস্থলে মারমুখী আচরণ এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার কারণে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বড় ধরনের ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাকে প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার দেখিয়ে থানায় নিয়ে আসে।
সোমবার রাতে তাকে ময়মনসিংহ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত তার জামিনের কোনো আবেদন জমা পড়েনি এবং আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।