ময়মনসিংহের ভালুকায় বিউটি পার্লার ব্যবসায়ী সাথী আক্তারকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ তোলার পর ২৬ অক্টোবর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়। ২৮ অক্টোবর আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে তিনি ফেসবুকে লাইভ করেছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ময়মনসিংহের ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেসে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ পরিচালনা করেন নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার, যিনি গত ২৬ অক্টোবর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান।
- দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে চুরি ও নিরাপত্তাহীনতার জেরে ২৫ অক্টোবর ফেসবুকে লাইভ করার পর স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী তার কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং মারধর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
- আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন আহমেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ অক্টোবর আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় সাথী আক্তারের নিজ জিম্মায় জামিন মঞ্জুর করেন এবং মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩ নভেম্বর।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেসের ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর স্বত্বাধিকারী ও নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার সম্প্রতি স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর হয়রানি, হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছেন। প্রায় ১৪ বছর ধরে ওই এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসা সাথী আক্তার গত ২৬ অক্টোবর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলেও ২৮ অক্টোবর আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পরপর কয়েকটি চুরির ঘটনা এবং এর ফলে সৃষ্ট চরম নিরাপত্তাহীনতা থেকে।
গত ২৫ অক্টোবর নিজের প্রতিষ্ঠানে এসির তার ও বিদ্যুতের মিটার কাটার মতো ঘটনার প্রতিকার চেয়ে এবং নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে সাথী আক্তার ফেসবুকে একটি লাইভ ভিডিও করেন। তার অভিযোগ, ওই লাইভ করার পরই স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী তার দোকানে এসে তাকে গালমন্দ করেন এবং দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তার ছেলে মো. জুনায়েদের ভাষ্যমতে, চাঁদা দাবির কথোপকথন মোবাইল ফোনে রেকর্ড হয়ে যাওয়ায় হামলাকারীরা তার মার কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নেন এবং রাত ১০টার পর তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। অতীতে বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এবং স্থানীয় নেতা ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা বললেও বর্তমানে নিজ দলের একাংশের এমন আচরণে চরম মনস্তাত্ত্বিক আঘাত পেয়েছেন বলে জানান সাথী।
ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ২৬ অক্টোবর তাকে আদালতে পাঠায় এবং ময়মনসিংহ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মোস্তাছিনুর রহমান জানান যে পুলিশি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সাথীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তাকে নিরাপত্তা না দিয়ে পুলিশ উল্টো গ্রেপ্তার করে। গত ২৮ অক্টোবর শুনানিকালে পুলিশ প্রতিবেদনে আমলযোগ্য অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ঘাটতি থাকায় আদালত মাত্র ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ৩ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও নারী উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী ও একজন নারী ব্যবসায়ী কেন নিজের দলীয় নেতাকর্মীদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হবেন—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।