বিলের জলাশয় থেকে ধরে আনা একটি বিষধর গোখরা সাপ নিজ বাড়িতে প্লাস্টিকের বাক্সে বন্দি করে পুষছিলেন কাঠমিস্ত্রি ইকবাল। গত মঙ্গলবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খোলার সময় আকস্মিকভাবে তার বামহাতে ছোবল দেয় গোখরাটি। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকরা তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিল থেকে বিষধর গোখরা সাপ ধরে এনে নিজ বাড়িতে প্লাস্টিকের বাক্সে বন্দি করে পুষছিলেন পেশায় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন।
- বাক্স খুলে সাপটিকে খাবার দেওয়ার সময় আকস্মিক ছোবলে তার বাম হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয় এবং বিষ ছড়িয়ে পড়ে।
- গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কাঠমিস্ত্রি ইকবালকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিলের জলাশয় থেকে ধরে আনা একটি বিষধর গোখরা সাপ নিজ বাড়িতে প্লাস্টিকের বাক্সে বন্দি করে পুষছিলেন কাঠমিস্ত্রি ইকবাল। শখের বসে বন্য সাপ বাড়িতে এনে লালন-পালনের এই ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের বিপর্যয়ের ডেকে আনে। সাপটিকে দীর্ঘদিন ধরে নিজের ঘরে রেখে বিভিন্ন খাবার দিয়ে আসছিলেন তিনি।
ঘটনার দিন নিয়মিত রুটিনের অংশ হিসেবে বাক্সে বন্দি ওই গোখরা সাপটিকে খাবার দিতে যান ইকবাল। কিন্তু বাক্সটি খোলার সাথে সাথেই সাপটি ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাম হাতে আকস্মিক ছোবল দেয়। সাপের বিষাক্ত দাঁত সরাসরি তার ত্বকে বসে যাওয়ায় মুহূর্তেই শরীরে বিষের প্রতিক্রিয়া শুরু হয় এবং তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা তার চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা তাকে অ্যান্টিভেনম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষধর সাপ এভাবে লোকালয়ে বা বাড়িতে রাখা চরম আইনবিরোধী ও জীবননাশক ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনা থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার এবং বন্যপ্রাণী আইন মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।