বাম আমলের শিল্পনীতি ও জমি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, বাম জমানার শিল্পনীতি জ্যোতি বসুর নেতৃত্বেই গ্রহণ ও ঘোষণা করা হয়েছিল, ফলে এর দায়ও মূলত তাঁরই। অন্যদিকে, সাবেক অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত দাবি করেছেন নীতিনির্ধারণে কোনো মতপার্থক্য ছিল না। এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, বাম আমলের শিল্পনীতি জ্যোতি বসুর নেতৃত্বেই গ্রহণ করা হয়েছিল এবং এর ফলে কোনো সমস্যা হলে তার দায় জ্যোতি বসুরই।
- সাবেক অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত দাবি করেছেন, বাম জমানায় শিল্প ও কৃষির সমন্বয়ে নীতি প্রণীত হয়েছিল এবং সরকারের ভেতরে শিল্পনীতি নিয়ে কোনো মতপার্থক্য ছিল না।
- বিমান বসুর এই মন্তব্যের পর বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একে 'বিলম্বিত বোধদয়' বলে উল্লেখ করে বাম জমানার শিল্পবিরোধী পরিবেশের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের বাম আমলের শিল্পনীতি এবং জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের স্মৃতি উসকে দিয়ে বিমান বসু জানিয়েছেন, তৎকালীন বাম সরকারের শিল্পনীতি জ্যোতি বসুর নেতৃত্বেই প্রণীত হয়েছিল এবং এর দায়ভারও তাঁরই। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সেই নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন।
সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ কেন্দ্র করে বাম জমানায় তীব্র রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। ১৮৯৪ সালের ব্রিটিশ আমলের জমি অধিগ্রহণ আইন এবং প্রশাসনিক পদ্ধতির ত্রুটির কারণে শিল্পায়ন প্রক্রিয়া বড় ধাক্কা খায়। বিশ্লেষকদের মতে, বিমান বসুর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চাপা থাকা দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিতর্ক ও অস্বস্তি আবারও প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
বিমান বসুর বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক বাম আমলের অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্তও। তিনি দাবি করেন, সরকারে বা দলের মধ্যে শিল্পনীতি নিয়ে কোনো মৌলিক মতভেদ বা ফাটল ছিল না। জ্যোতি বসুর চিন্তাধারাতেই প্রথম বামফ্রন্ট সরকারের আমল থেকেই কৃষি ও শিল্পকে পরিপূরক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, এই মন্তব্যের ফলে বাম আমলের শিল্পায়ন ব্যর্থতার দায় কার কাঁধে বর্তায়, তা নিয়ে নতুন করে তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিরোধী শিবির এই সুযোগে বামেদের বিগত নীতির কঠোর সমালোচনা করছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি ও সংসদীয় নেতারা বিমান বসুর মন্তব্যকে 'বিলম্বিত বোধদয়' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের দাবি, বাম জমানার ভুল নীতি এবং শিল্পের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের কারণেই পশ্চিমবঙ্গ তার শিল্পায়ন সম্ভাবনা হারিয়েছিল। এই মন্তব্য আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির তাত্ত্বিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।