৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"২০২৫ সালের জুলাইয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের নিয়ম পরিবর্তনের ফলে ৩৪ ওভার শেষে অধিনায়ক একটি বল বেছে নেওয়ায় রিভার্স সুইংয়ের পুনর্জাগরণ ঘটেছে। নতুন এই নিয়মে ইনিংসের শেষ ওভারে পেসারদের বোলিং গড় ও ইকোনমি রেট কমেছে। ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দলের বোলাররা পুরোনো বলের সুবিধা পেলেও কিছু দলের ব্যাটিং রান রেট কমেছে, যা আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপের কৌশলে প্রভাব ফেলবে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রবর্তিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী ওয়ানডে ইনিংসে ৩৪ ওভার শেষে অধিনায়ক দুই প্রান্তের দুটি ব্যবহৃত সাদা বলের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় রিভার্স সুইংয়ের পুনর্জাগরণ ঘটেছে।
- নিয়ম পরিবর্তনের পর শেষ ১০ ওভারে পেসারদের ফুল লেংথ ডেলিভারির অর্ধেকের বেশি ক্ষেত্রে এক ডিগ্রির বেশি সুইং মিলছে এবং পেসারদের ইকোনমি রেট ওভারপ্রতি ৮.৪০ রান থেকে কমে ৭.৯৫ রানে দাঁড়িয়েছে।
- ইংল্যান্ডের বোলিং গড় ৩৬.৭৬ থেকে কমে ২০.৯১ হয়েছে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের আলজারি জোসেফের বোলিং গড় ২৪.১ থেকে কমে ১৭.৪ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিডির বোলিং গড় ১৩-এ নেমে এসেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের শর্তে আনা নতুন নিয়মের কারণে দীর্ঘ দিন পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরে এসেছে রিভার্স সুইংয়ের পুরোনো রোমাঞ্চ। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ইনিংসের ৩৪ ওভার শেষে দুই প্রান্ত থেকে ব্যবহৃত দুটি সাদা বলের মধ্যে কোনটি দিয়ে বাকি ওভারগুলো খেলা হবে, তা বেছে নেওয়ার সুযোগ পান অধিনায়ক। এর ফলে নির্বাচিত বলটি আরও পুরোনো ও রুক্ষ হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় পেসাররা ইনিংসের শেষ দিকে অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন। হেডিংলিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের হারের পর কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামও এই পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন যে বল এখন ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে।
পরিসংখ্যান বলছে, এই নিয়ম পরিবর্তনের পর শেষ ওভারগুলোতে খেলার গতিপ্রকৃতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। নতুন নিয়ম চালুর পর শেষ ১০ ওভারে পেসারদের করা ফুল লেংথের বলের প্রায় অর্ধেকের ক্ষেত্রেই এক ডিগ্রির বেশি সুইং পাওয়া যাচ্ছে, যা আগের ১৮ মাসে ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ। এর ফলে পেসারদের ইকোনমি রেট ওভারপ্রতি ৮.৪০ রান থেকে কমে ৭.৯৫ রানে নেমে এসেছে এবং বোলিং গড় প্রতি উইকেটে ১৯.২ রান থেকে কমে হয়েছে ১৮.৩ রান। ইনিংসের শেষ দিকে আগের মতো অনায়াসেই বড় শট খেলতে পারছেন না ব্যাটাররা।
এই পরিবর্তন থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ইংল্যান্ড দল। নিয়ম পরিবর্তনের পর তাদের শেষ ওভারগুলোর বোলিং গড় ৩৬.৭৬ থেকে কমে ২০.৯১ এবং ইকোনমি রেট ৯.৭৮ থেকে কমে ৭.৫৩-এ নেমে এসেছে। একই সঙ্গে তাদের ব্যাটিং রান রেট ৮.০৭ থেকে বেড়ে ৯.১৬ হয়েছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আলজারি জোসেফের সুইং ৮৪ শতাংশ বেড়ে বোলিং গড় ২৪.১ থেকে ১৭.৪ হয়েছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিডির ইকোনমি রেট ৯.৩৪ থেকে কমে ৬-এ নেমে এসেছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বোলারদের সুইংয়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
আগামী বিশ্বকাপের এক বছরেরও কম সময় বাকি থাকতে এই কৌশলগত পরিবর্তন দলগুলোর পরিকল্পনাকে নতুন রূপ দিচ্ছে। যদিও সব দেশে ও পিচে রিভার্স সুইংয়ের প্রভাব সমান নয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকা বা অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে, তবুও সামগ্রিকভাবে ওয়ানডে ক্রিকেটে বোলারদের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে এই নিয়ম একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।