৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেমরি চিপ ও যন্ত্রাংশের ঊর্ধ্বগতির কারণে চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন সরবরাহ ২০% হ্রাস পেয়েছে, যা ২০১২ সালের পর সর্বনিম্ন। দাম বৃদ্ধির ফলে খুচরা মূল্য ২০% পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে স্যামসাং ২৩% শেয়ার নিয়ে শীর্ষে থাকলেও অ্যাপল, শাওমি, ওপ্পো ও ভিভোর শিপমেন্ট উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, মেমরি চিপের (DRAM ও NAND) মূল্যবৃদ্ধির কারণে তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০% কমেছে।
- উপাদান খরচ বাড়ায় ২০২৬ সালের শুরু থেকে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোনের খুচরা মূল্য ২০% বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে স্যামসাং ২৩% বাজার অংশ নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে এবং অ্যাপলের শেয়ার প্রথমবারের মতো ২০% ছাড়িয়েছে।
- চিনভিত্তিক ব্র্যান্ড শাওমির পণ্য চালান ৩০ শতাংশের বেশি কমে ১০ শতাংশে নেমেছে, এবং ওপ্পো ও ভিভোর বাজার অংশ যথাক্রমে ৯% ও ৮%-এ দাঁড়িয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজার এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় স্মার্টফোন সরবরাহ ২০% হ্রাস পেয়েছে, যা ২০১২ সালের পর এই ত্রৈমাসিকে সর্বনিম্ন উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে। ডিআরএএম (DRAM) এবং ন্যান্ড (NAND) মেমরি চিপের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিল অফ মেটেরিয়ালস বা উপকরণের খরচ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোনের খুচরা মূল্য ২০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রস্তুতকারকদের উৎপাদন কৌশল ও ভোক্তাদের ক্রয় আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
এই তীব্র সংকটের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে মেমরি চিপের ধারাবাহিক ঘাটতি। যন্ত্রাংশের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতে মোবাইল নির্মাতারা বর্ধিত খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন, যা বাজারের গড় বিক্রয়মূল্য (ASP) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সিনিয়র অ্যানালিস্ট শিল্পি জৈন জানান, ক্রমবর্ধমান দামের কারণে সাধারণ ভোক্তারা তাদের ডিভাইসগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি দিন ব্যবহার করছেন এবং রিফারবিশড বা ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি উচ্চ-মূল্যের প্রিমিয়াম পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে প্রিমিয়াম এবং মূল্য-সংবেদনশীল সেগমেন্টের মধ্যকার ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি সত্ত্বেও স্যামসাং ২৩% বাজার অংশ নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড৮ সিরিজের চাহিদা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে, স্ট্যান্ডার্ড আইফোন ১৮ মডেলের অনুপস্থিতির কারণে উৎপাদনের গতি কিছুটা মন্থর হলেও অ্যাপলের বাজার অংশ প্রথমবারের মতো ২০ শতাংশের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। তবে এর বিপরীতে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীনা ব্র্যান্ডগুলো। গত বছরের তুলনায় শাওমির পণ্য চালান ৩০ শতাংশেরও বেশি কমে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। একই কারণে ওপ্পো এবং ভিভোর বাজার অংশ যথাক্রমে কমে ৯% এবং ৮%-এ এসে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময়গুলোতেও বিশ্ব বাজারে এই চ্যালেঞ্জগুলো বহাল থাকবে। যন্ত্রাংশের চড়া মূল্য এবং সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের মধ্যে মুনাফার মার্জিন রক্ষা করা নির্মাতাদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। ভবিষ্যতে উৎপাদন সংকোচন, পণ্যের পরিসর সীমিত করা এবং সাশ্রয়ী ডিভাইসের পরিবর্তে প্রিমিয়াম মডেলগুলোর ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ার প্রবণতাই বিশ্ব স্মার্টফোন বাজারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Vietnam.vn-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।