বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসা আবেদনের সাক্ষাৎকার স্থগিত করলো যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের জন্য সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে বিরতি জারি করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। দেশটির চলমান অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের জন্য সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে বিরতি জারি করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
- End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন: বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
- বাইরের লিংক সম্পর্কে বিবিসির দৃষ্টিভঙ্গি সম্বন্ধে পড়ুন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের জন্য সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে বিরতি জারি করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। দেশটির চলমান অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার বলেন, ের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে এবং এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসা সেবার সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সমন্বয় করা হবে।
ট্রাম্প ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান এবং অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতি অনুসরণ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা এবং রাজনৈতিক মতামত ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইয়েরায়েলের গাজা অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের মতো বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা।
তার দাবি, এই অভিযান দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
তবে এই অভিযান কিছু আইনি বাধার মুখেও পড়েছে। শুক্রবার একজন মার্কিন বিচারক বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নীতি বাতিল করে দেন।
বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল ফলো করতে এখানে ক্লিক/ট্যাপ করুন
বিচারকের মতে, এই নীতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও'র আইনগত কর্তৃত্বের সীমা অতিক্রম করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ওই সিদ্ধান্তের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশ; ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়েসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলো; বসনিয়া ও আলবেনিয়ার মতো বলকান অঞ্চলের দেশগুলো; এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহু দেশের ভিসা আবেদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা তার সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
তবে তারা বলেছে, এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সহায়তা করা, যাদের যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভিসা আবেদনকারীদের "সামগ্রিক ও সঙ্গতিপূর্ণভাবে" মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।
ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে এই বিরতির খবর প্রথম ফিন্যানশিয়াল টাইমস প্রকাশ করে।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে সাক্ষাৎকার নির্ধারিত থাকা অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীরা ইমেইল পেয়েছেন, যেখানে জানানো হয়েছে যে তাদের সাক্ষাৎকার পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির কথা বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিবাসন নীতিতে বেশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে আসছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে "তৃতীয় ের দেশ" থেকে অভিবাসন "স্থায়ীভাবে স্থগিত" করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট তখন বলেছিলেন, "স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে এবং মার্কিন জনগণের উদারতার অপব্যবহার করবে"।
ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্ত গত ২১শে জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়েছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী এই অভিযান মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাদের মতে, এটি বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারের পরিপন্থী।
অধিকারকর্মী সংগঠনগুলোর আরও দাবি, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য, যাদের মধ্যে অনেকেই জাতিগত প্রোফাইলিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার অঙ্গীকার করলেও, তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনও আরও কঠিন করে তুলেছে। উদাহরণ হিসেবে, নির্দিষ্ট কিছু কর্মভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপ করা হয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও তথ্যের অধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত উপলব্ধি ও সহজ পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি সংকলন ও প্রস্তুত করেছে।
মোবাইল অ্যাপে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে খবর পড়ুন
স্মার্ট অডিও ন্যারেটর, ২৪/৭ লাইভ টিভি স্ট্রিমিং, অফলাইন মোড এবং দ্রুততম ব্রেকিং নিউজ নোটিফিকেশন পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের ফ্রি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ।