বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের চাহিদা ও বাজারমূল্য সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ২০২৪ সালের প্রথম নয় মাসে স্বর্ণের মোট চাহিদা ৩ হাজার ৮৮১ টনে পৌঁছেছে, যার বাজারমূল্য ৫৬৬ বিলিয়ন ডলার। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) তথ্যমতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এ সময়ে ৬৭৫ টন স্বর্ণ কিনেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। তৃতীয় প্রান্তিকে চাহিদা সামান্য কমলেও বিনিয়োগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মজুত বৃদ্ধিতে দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০২৪ সালের প্রথম নয় মাসে স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা ৩ হাজার ৮৮১ টনে দাঁড়িয়েছে, যার মোট বাজারমূল্য ৫৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
- চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ৩২১ টন স্বর্ণ ক্রয় করেছে এবং বছরের প্রথম নয় মাসে তাদের মোট ক্রয়ের পরিমাণ ৬৭৫ টনে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি।
- ডব্লিউজিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৬৯ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কম হলেও উচ্চমূল্যের কারণে বাজারমূল্য বেড়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম নয় মাসে স্বর্ণের মোট চাহিদা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮১ টনে। এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বাজারমূল্য ৫৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা বৈশ্বিক স্বর্ণের বাজারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আর্থিক মূল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মূলত ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।
ডব্লিউজিসির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্বর্ণের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৬৯ টন। যদিও এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কম, তবুও স্বর্ণের আকাশচুম্বী দামের কারণে সামগ্রিক বাজারমূল্য বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিনিয়োগকারীরা ফিজিক্যাল গোল্ড বা বার ও কয়েনের চেয়ে গোল্ড ইটিএফ (Exchange Traded Funds)-এর দিকে বেশি ঝুঁকেছেন, যা বাজারে তারল্য ও চাহিদাকে প্রভাবিত করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ মজুত করার প্রবণতা এই রেকর্ড মূল্যের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে ৩২১ টন স্বর্ণ ক্রয় করেছে। বছরের প্রথম নয় মাসে তাদের মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭৫ টনে, যা ২০২৩ সালের প্রথম নয় মাসের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডলারের বিকল্প হিসেবে এবং মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের মজুত বাড়াতে তৎপর রয়েছে।
স্বর্ণের এই রেকর্ড মূল্য বিশ্ব অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাব ফেলছে। একদিকে যেমন জুয়েলারি শিল্পে উচ্চমূল্যের কারণে খুচরা চাহিদা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আবেদন আরও জোরালো হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বজায় থাকলে স্বর্ণের দাম নিকট ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।