পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাড়ি মেরামতে ১.৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছেন। হুগলির পুরশুড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের ৯০ হাজার এবং সামান্য ক্ষতিগ্রস্তদের ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া আলু রপ্তানিতে কুইন্টাল প্রতি ৫০ টাকা ভর্তুকি এবং ৪৬ লক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকরা ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, আংশিক ক্ষতিগ্রস্তরা ৯০ হাজার টাকা এবং সামান্য ক্ষতিগ্রস্তরা ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন।
- আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার প্রতি কুইন্টালে ৫০ টাকা ভর্তুকি দেবে এবং আলুকে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় এনে প্রিমিয়ামের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবে।
- রাজ্য সরকার ৪.৭৫ লক্ষ কুইন্টাল আলু ৯৫০ টাকা দরে কিনে ৫৬৭টি হিমঘরে সংরক্ষণ করেছে এবং বাজারমূল্য ১১২০ টাকার নিচে নামলে সরকার ভর্তুকি দিয়ে ঘাটতি পূরণ করবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৃহস্পতিবার হুগলি জেলার পুরশুড়ায় ‘মুখ্যমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। বন্যায় বাড়িঘর হারানো কৃষকদের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের ৪৬ লক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে এই প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
এই প্রকল্পের আওতায় মালদহ জেলার ভূতনি চরের ১০ হাজার ৭৫০ জন কৃষককে বীজ সরবরাহ এবং রাজ্যের চার লক্ষ কৃষককে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ২ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আলুচাষিদের স্বার্থে এবার থেকে অন্য রাজ্যে আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না। বরং পরিবহন খরচ কমাতে গাড়ি বা ট্রেনে আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে কুইন্টাল প্রতি ৫০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে।
কৃষকদের সুরক্ষায় রাজ্য সরকার ৪.৭৫ লক্ষ কুইন্টাল আলু ৯৫০ টাকা দরে সংগ্রহ করে ৫৬৭টি হিমঘরে সংরক্ষণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, বাজারে আলুর দাম ফ্রি বন্ডের নির্ধারিত ১১২০ টাকার নিচে নেমে গেলে সরকার ভর্তুকি দিয়ে সেই দামের পার্থক্য পূরণ করবে। এছাড়া আলুকে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার অন্তর্ভুক্ত করে প্রিমিয়ামের পুরো খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এই পদক্ষেপগুলো রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আলুচাষিদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে। এই নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের কৃষি উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।