বৈশ্বিক বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন ও শক্তিশালী সহায়ক নেটওয়ার্কের ঘাটতির কারণে এর প্রসার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় দেশেই অবকাঠামোগত এই দুর্বলতার কারণে সাধারণ ক্রেতারা ইভি ক্রয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন, যা কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা তৈরি করছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা গত বছরে প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও, তুলনামূলকভাবে দ্রুত চার্জিং স্টেশন স্থাপনের হার মাত্র ১২ শতাংশ।
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে মহাসড়ক ও শহরাঞ্চলে অন্তত চার কোটি নতুন চার্জিং পয়েন্ট স্থাপন প্রয়োজন।
- ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও গ্রিড ব্যবস্থার আধুনিকায়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে অনেক উদীয়মান বাজারে ইভি পেমেন্ট ও মেইনটেন্যান্স খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি রয়ে গেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ লাগাতার বাড়ছে। কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক অঙ্গীকারের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাটারিচালিত এসব বাহনের জনপ্রিয়তা দৃশ্যমান হলেও, এর যথাযথ বিস্তারে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে অপর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো ও দুর্বল গ্রিড নেটওয়ার্ক। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং চার্জিং স্টেশনের দীর্ঘ সারির কারণে অনেক ক্রেতাই ঐতিহ্যবাহী জ্বালানিচালিত গাড়ির দিকেই ঝুঁকে থাকছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইভি খাতের মূল প্রতিবন্ধকতা কেবল গাড়ির উৎপাদন খরচ নয়, বরং এর পেছনে প্রয়োজনীয় সাপ্লাই চেইন ও রিফুয়েলিং ইকোসিস্টেমের অভাব। শহরাঞ্চলে কিছু ফাস্ট-চার্জিং স্টেশন গড়ে উঠলেও আধা-শহর বা গ্রামীণ জনপদে এর উপস্থিতি প্রায় শূন্যের কোঠায়। এছাড়া জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে যে ধরনের স্মার্ট গ্রিড ও নবায়নযোগ্য শক্তির সংযোগ প্রয়োজন, তার অধিকাংশ দেশেই অপ্রতুল। ফলে বড় বড় অটোমোবাইল জায়ান্টগুলো গাড়ি উৎপাদন বাড়ালেও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত বাজার সম্প্রসারণ করতে পারছে না।
অটোমোবাইল শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ বিনিয়োগ ছাড়া এই ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন অসম্ভব। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বর্তমানের তুলনায় অন্তত পাঁচগুণ বেশি ফাস্ট-চার্জিং পয়েন্ট স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি, ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নয়ন ও তা দ্রুত রিচার্জ করার সক্ষমতা অর্জনে গবেষণা খাতে বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যথায়, ইভি বিপ্লব টেকসই রূপ লাভ করতে ব্যর্থ হবে।
দীর্ঘমেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিকল্প নেই। তবে এই খাতকে গণমুখী করতে হলে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কার্যকর কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে। চার্জিং হাব স্থাপনে কর ছাড়, ভর্তুকি প্রদান এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালু করা হলে বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসবেন। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বৈদ্যুতিক বাহনগুলোর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।