ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দক্ষিণপন্থি প্রার্থী ফ্ল্যাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন বামপন্থি নেতা লুইস ইনোসিও লুলা দ্য সিলভা। চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চূড়ান্ত রাউন্ডের নির্বাচনে লুলা ৫১ দশমিক সাত শতাংশ ভোট পেয়েছেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বলসোনারো অর্জন করেন ৪৮ দশমিক দুই শতাংশ ভোট। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে থেকেও লুলার এই জয় এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক রেকর্ড গড়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চূড়ান্ত পর্যায়ে ৫১ দশমিক সাত শতাংশ ভোট পেয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বামপন্থি নেতা লুইস ইনোসিও লুলা দ্য সিলভা, এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণপন্থি ফ্ল্যাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক দুই শতাংশ ভোট।
- ব্রাজিলে গত শতকের আটের দশকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কোনো প্রার্থী প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে থেকেও চূড়ান্ত পর্যায়ে জয়লাভ করে প্রেসিডেন্ট হলেন।
- নির্বাচনী প্রচারে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে ভোটদানের সময়সীমা দুই ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছিল এবং গরিব ও জনবহুল উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলোর ভোট গণনার পরই লুলার জয় নিশ্চিত হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ব্রাজিলের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তন ঘটেছ। দক্ষিণপন্থি প্রার্থী ফ্ল্যাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বামপন্থি নেতা লুইস ইনোসিও লুলা দ্য সিলভা। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চূড়ান্ত পর্যায়ের এই ভোটাভুটিতে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক সাত শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, তার রক্ষণশীল প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্ল্যাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক দুই শতাংশ ভোট। ব্রাজিলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি অভূতপূর্ব ঘটনা, কারণ গত শতকের আটের দশকে দেশটিতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কোনো প্রার্থী প্রথম রাউন্ডের লড়াইয়ে হেরে গিয়েও চূড়ান্ত পর্যায়ে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসলেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি ছিল নানা নাটকীয়তা ও বিতর্কে পরিপূর্ণ। প্রচারণার সময় দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি ও বিভিন্ন কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। ভোটগ্রহণের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়া বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন শহরের রাস্তা থেকে বাস তুলে নেওয়ার অভিযোগ আনেন লুলা। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট শেষ মুহূর্তে ভোট দেওয়ার সময়সীমা দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে দেয়। ভোট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভোটগ্রহণ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত লুলার বাক্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রাথমিক গণনায় রক্ষণশীল প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও, তুলনামূলক গরিব ও জনবহুল উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর ভোট গণনা শুরু হতেই লুলার ব্যবধান দ্রুত বাড়তে থাকে।
টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর লুলার সামনে এখন বেশ কিছু বড় ভূরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ রাখা তার পররাষ্ট্রনীতির প্রধান পরীক্ষা হতে চলেছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে নিজের প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট। এর আগে বলসোনারো ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেও, লুলার বামপন্থি আদর্শের জেরে দ্বিপক্ষীয় সমীকরণে নতুন সমীকরণ দেখা দিতে পারে। এছাড়া প্রবাসী ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যেও লুলার জনপ্রিয়তা স্পষ্ট ছিল, যার প্রমাণ মেলে জার্মানিতে বসবাসরত ব্রাজিলিয়ান নাগরিকদের ৭৯ শতাংশের বেশি ভোট লুলার পক্ষে যাওয়ার মধ্য দিয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, লুলার এই বিজয় লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক মানচিত্রে বামপন্থি ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে। দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রাজিলকে স্বাধীন ও শক্তিশালী অবস্থানে রাখা নতুন প্রশাসনের জন্য প্রধান অগ্রাধিকার হবে। প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরিয়ে লুলার এই প্রত্যাবর্তন কেবল তার রাজনৈতিক দীর্ঘায়ুকেই প্রমাণ করে না, বরং ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতার ওপর জনগণের আস্থারও এক বড় বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।