৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"যুক্তরাজ্যে সমকামী সেজে ভুয়া আশ্রয়ের আবেদন তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলভিত্তিক ‘আপনজন’ নামক সংগঠনের প্যাডে জাল নথি ও সাজানো ছবি বানিয়ে চক্রটি অভিবাসীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে চার হাজার পাউন্ড নিত। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত শতাধিক আবেদন বর্তমানে পুনর্মূল্যায়ন করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পূর্ব লন্ডনের ‘আপনজন’ নামের একটি বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠনের মাধ্যমে ভুয়া সমকামী সাজিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করানোর অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
- চক্রটি সাজানো ছবি, সমলিঙ্গের সম্পর্কের ভুয়া চিঠি ও জাল প্রত্যয়নপত্র সরবরাহের মাধ্যমে আবেদনকারী প্রতি ১ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ হাতিয়ে নিত।
- যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত শতাধিক আশ্রয়ের আবেদন পুনরায় পর্যালোচনা করছে; আশ্রয় জালিয়াতির দায়ে দোষীদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
যুক্তরাজ্যে সমকামী সেজে রাজনৈতিক আশ্রয়ের ভুয়া আবেদন তৈরিতে সহায়তাকারী একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোম অফিস) কর্মকর্তাদের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে লন্ডনের বিভিন্ন ঠিকানা থেকে দুজনকে জালিয়াতি ও অভিবাসন অপরাধে এবং অপর একজনকে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থানের অভিযোগে আটক করা হয়। অভিযানকালে কর্মকর্তাদের দল সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার জব্দ করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফৌজদারি তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানিয়েছেন, পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে অবস্থিত ‘আপনজন’ নামক একটি বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতায় দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চলছিল। তদন্তে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ফিরে গেলে সমকামী হিসেবে প্রাণনাশের শঙ্কা রয়েছে—এমন মনগড়া দাবি প্রতিষ্ঠা করতে চক্রটি অভিবাসীদের কাছ থেকে এক হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফি আদায় করত। এই অর্থের বিনিময়ে তারা ‘আপনজন’-এর প্যাডে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র, সাজানো অন্তরঙ্গ ছবি এবং সমলিঙ্গের সম্পর্কের বানোয়াট চিঠি তৈরি করে দিত।
ব্রিটিশ অভিবাসন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা আগেই ‘আপনজন’-এর দেওয়া নথিপত্রকে অগ্রহণযোগ্য ও অসঙ্গতিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছিলেন। একটি মামলায় দেখা যায়, এক আবেদনকারী যুক্তরাজ্যে মূল আশ্রয়ের আবেদন করার দীর্ঘ নয় বছর পর হঠাৎ নিজেকে সমকামী হিসেবে দাবি করেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও লন্ডনে ‘উস্টার এলজিবিটি’ নামক অপর একটি সংগঠনের মাধ্যমে একই ধরনের জাল আশ্রয়ের প্যাকেজ বাণিজ্যের প্রমাণ প্রকাশ পেয়েছিল, যা পরবর্তীতে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই আশ্রয় জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সতর্ক করেছেন যে, নিপীড়নের ভান করে প্রকৃত সুরক্ষা প্রার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্নকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি জানান, জালিয়াতিতে জড়িত চক্রের ব্যবসা বন্ধ ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি প্রতারণামূলক আবেদনগুলো বাতিল করে আবেদনকারীদের যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হবে। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, অভিবাসন ও আশ্রয় জালিয়াতিতে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।