মার্কিন ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি দুইবার ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০১৯ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা এবং ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রতিনিধি পরিষদে তিনি অভিযুক্ত হন। যদিও সিনেটে দুইবারই তিনি খালাস পান। মার্কিন সংবিধানের ২য় অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী গুরুতর অপরাধে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিধান রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মার্কিন ইতিহাসে অ্যান্ড্রু জনসন (১৮৬৮), বিল ক্লিনটন (১৯৯৮) এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (২০১৯ ও ২০২১) মোট তিনজন প্রেসিডেন্ট ইমপিচমেন্টের শিকার হয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টকেই সিনেটের মাধ্যমে অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে ইউক্রেন ইস্যুতে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ২০২১ সালে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রতিনিধি পরিষদে দুইবার ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাস হয়।
- মার্কিন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২, ধারা ৪ অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহ, ঘুষ গ্রহণ বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের দায়ে প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে অপসারণের আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, যিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুইবার প্রতিনিধি পরিষদে ইমপিচ বা অভিশংসিত হয়েছেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগে প্রথমবার এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয়বার তিনি এই আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন। যদিও উভয় ক্ষেত্রেই সিনেটে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের অভাবে তিনি খালাস পান।
মার্কিন সংবিধানের ২য় অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রদ্রোহ, ঘুষ গ্রহণ বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের দায়ে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিধান রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে ১৮৬৮ সালে অ্যান্ড্রু জনসন এবং ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটন ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল ভিন্ন, কারণ তার দ্বিতীয় ইমপিচমেন্টটি ঘটেছিল তার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, যা মার্কিন রাজনীতিতে এক গভীর মেরুকরণ সৃষ্টি করে।
আইনি বিশ্লেষকদের মতে, ইমপিচমেন্ট কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি সাংবিধানিক জবাবদিহিতার অংশ। ট্রাম্পের সমর্থক ও রিপাবলিকান শিবিরের একাংশ একে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' হিসেবে অভিহিত করলেও, ডেমোক্র্যাটরা একে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছেন। সিনেটের ভোটাভুটিতে ট্রাম্পের খালাস পাওয়া প্রমাণ করে যে, মার্কিন উচ্চকক্ষে দলীয় আনুগত্য অনেক সময় সাংবিধানিক অপরাধের বিচারের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়ায়।
ভবিষ্যৎ মার্কিন রাজনীতিতে এই ঘটনাপ্রবাহ এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কেবল তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিতেই নয়, বরং মার্কিন বিচারব্যবস্থা ও কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সম্ভাব্য নতুন আইনি জটিলতা বা পুনরায় ক্ষমতায় আসার আকাঙ্ক্ষা মার্কিন ভোটারদের মধ্যে এক নতুন মেরুকরণ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যা আগামী নির্বাচনের ফলাফলেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।