বৃষ্টি, গরম ও ঘূর্ণিঝড়, অক্টোবরে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"চলতি অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হলেও বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রথমার্ধের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার পর তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। তবে এল নিনোর প্রভাবে শীতের শুরুতে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকতে পারে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে পুরো দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং প্রথমার্ধের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেবে।
- আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাবে এ বছর শীতের শুরুতে তাপমাত্রা অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
অক্টোবরের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত ও গরমের অনুভূতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুরো অক্টোবর জুড়ে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ কিংবা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস। মৌসুমি বায়ু বিদায়ের এই সময়ে ঘূর্ণিঝড় তৈরির প্রবণতা আবহাওয়াগতভাবে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অক্টোবর মাস হলো বর্ষাকাল পেরিয়ে শুষ্ক মৌসুমের দিকে যাওয়ার একটি ক্রান্তিকাল। সাধারণত এ সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে ধীরে ধীরে বিদায় নিতে শুরু করে এবং শীতের আবহাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বাড়তে থাকে। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের মতে, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু ও পশ্চিমা বায়ুর পারস্পরিক স্থান দখলের চেষ্টার ফলে দুর্বল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বিক্ষিপ্তভাবে জলীয় বাষ্প এসে মেঘ ও বৃষ্টি তৈরি করছে, যা আরও চার থেকে পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চল মূলত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে অক্টোবরের ১০ তারিখের পর থেকে দেশজুড়ে বৃষ্টির প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এই সময়ের মধ্যে প্রথমার্ধেই বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি বিদায় নেবে এবং মাসের শেষ দিক থেকে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে শুরু করবে।
এদিকে এল নিনোর প্রভাবে চলতি বছর শীতের শুরুতে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা গত কয়েক বছরের আবহাওয়ার ধারার চেয়ে কিছুটা আলাদা। বিগত বছরগুলোতে জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বর্ষার বৃষ্টির প্রবণতা বেশি দেখা গেলেও এবার প্রকৃতি তার স্বাভাবিক নিয়ম অনুসরণ করেছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের সুনির্দিষ্ট গতিপথ বা বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আগাম কিছু বলা না গেলেও, মৌসুমি বায়ু বিদায়ের এই সংবেদনশীল সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।