রাজধানীতে বিত্তবান পুরুষদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে মূল হোতাসহ পাঁচ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের নানা কৌশলে ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত এবং ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালাত।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের মূল হোতাসহ মোট ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- চক্রটি বিত্তবান ব্যবসায়ী ও পুরুষদের সুকৌশলে প্রেমের জালে ও ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি ধারণ করত এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বড় অংকের অর্থ আদায় করত।
- ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলতে চক্রটি ‘ভাগনের স্ত্রীকে’ টোপ হিসেবে ব্যবহার করত এবং পরবর্তীতে তাদের গোপন আস্তানায় আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালাতো।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীতে বিত্তবান পুরুষ ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি ধারণ এবং পরবর্তীতে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি অভিজাত এলাকার ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের নানা কৌশলে ফাঁদে ফেলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।
গোয়েন্দা সূত্র ও পুলিশ জানায়, চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত। পরিবারের সদস্য বা আত্মীয় পরিচয়ে বিশেষ করে ‘ভাগনের স্ত্রীকে’ টোপ হিসেবে ব্যবহার করে তারা বিত্তবান পুরুষদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলত। পরবর্তীতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানায় বা নিজেদের আস্তানায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে সুকৌশলে টার্গেটেড ব্যক্তির সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হতো।
পরবর্তীতে ওই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া বা পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিয়ে শুরু হতো ব্ল্যাকমেল ও মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি। শুধু অর্থ আদায় করেই তারা ক্ষান্ত হতো না; বরং অনেক ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো এবং তাদের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হতো। সম্প্রতি এক ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং তাদের কোনো বড় অপরাধ সিন্ডিকেট বা রাজনৈতিক ছত্রছায়া রয়েছে কি না, সে বিষয়ে গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ধরনের প্রতারক চক্রের হাত থেকে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের রক্ষায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।