৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"চাকরির প্রলোভনে ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগে মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। কারওয়ান বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৭ মে জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপের মাধ্যমে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা নিয়ে তাদের পাঠানো হয়। সেখানে ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে ড্রোন হামলায় অন্তত ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গত ৭ মে ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠানো হয় এবং জনপ্রতি প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
- ২১ দিনের সংক্ষিপ্ত সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যার ফলে প্রতিপক্ষের ড্রোন হামলায় অন্তত ২০ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
- ঘটনার সঙ্গে জড়িত মানব পাচার চক্রের মূল হোতা জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান (৫৫) ও আবু তাহের লেন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়ন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর জোরপূর্বক দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহা. আসাদুজ্জামান জানান, ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ওই বাংলাদেশিদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াল রণক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেখানে শত্রুর অবস্থান শনাক্তকরণের জন্য তাদের ব্যবহার করার ফলে ড্রোন হামলায় অন্তত ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৭ মে জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল, আরএস ইন্টারন্যাশনাল এবং টিএস গ্রুপ নামের তিনটি রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ৩০ তরুণকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়। চুক্তিতে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজের কথা থাকলেও রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের চুক্তি লঙ্ঘন করে সরাসরি সামরিক বাহিনীতে নাম লেখাতে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় মানব পাচার চক্রের অন্যতম হোতা জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান (৫৫) ও তার সহযোগী আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়োজিতদের শারীরিক কিংবা কৌশলগত যুদ্ধের কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না। মাত্র ২১ দিনের দায়সারা প্রশিক্ষণের পর তাদের যুদ্ধক্ষেত্রের প্রথম, মধ্য ও শেষ ভাগে মোতায়েন করা হয়। যুদ্ধক্ষেত্রের প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়। বেঁচে থাকা আহতদের মধ্যে রাজন নামের এক বাংলাদেশি অলৌকিকভাবে দেশে ফিরে আসেন। তার ভাষ্যমতে, ড্রোনের আঘাতে কোমর ভেঙে যাওয়ার পরও তিনি বুকের ওপর ভর দিয়ে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বেঁচে ফেরেন। বর্তমানে দু'জন মস্কোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং অপর ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন।
এই আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সঙ্গে দেশীয় দালালদের পাশাপাশি রাশিয়ার ইগর ও কিরগিজস্তানের জুলিয়া নামের দুই বিদেশি নাগরিক জড়িত বলে জানিয়েছে এসআরবি। চক্রের আরেক সদস্য মোস্তাফিজুরকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার যুবকরা এই চক্রের খপ্পরে পড়ে বিদেশে সর্বস্বান্ত ও মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েছেন।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক যুগান্তর-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।