৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"চালু হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় যমুনা সার কারখানায় আবারও ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়। এর আগে আট মাস বন্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার রাতে উৎপাদন শুরু হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যামোনিয়া উৎপাদন সচল রয়েছে এবং এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ত্রুটি ঠিক হবে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানার বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে ইউরিয়া উৎপাদন কার্যক্রম আকস্মিক বন্ধ হয়ে যায়।
- দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার রাতে গ্যাস সংযোগ পাওয়ায় কারখানাটিতে উৎপাদন পুনরায় চালু করা হয়েছিল, যা মাত্র দুই দিন স্থায়ী হলো।
- দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও যমুনা সার কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রধান ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় পুনরায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। চালুর মাত্র দুই দিনের মাথায় বয়লারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। কারখানার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন) দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে বয়লারে লিকেজ দেখা দেওয়ায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হন তারা। তবে অ্যামোনিয়া উৎপাদন সচল রয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বয়লার মেরামত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি এবং তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ আট মাস কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পর গত মঙ্গলবার রাতে অত্যন্ত আনন্দের সাথে কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের অভাবে এই সচল অবস্থা টিকল মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। এর ফলে উত্তর জনপদের কৃষকদের মাঝে সার সরবরাহ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) আওতাধীন এই কারখানার দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা রয়েছে। তবে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটে আসছিল। স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ পেলে এই কারখানা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদিত হয়, যার আনুমানিক মাসিক মুনাফা প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অথচ উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শুধু যন্ত্রপাতি সচল রাখতে প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকার গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হয়।
যমুনা সার কারখানার উৎপাদিত ইউরিয়া সার বিসিআইসির তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ জন ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের মোট ২১টি জেলায় কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়। শীতকালীন ও বোরো মৌসুমে সারের এই আকস্মিক উৎপাদন বন্ধ কৃষিক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দ্রুত বয়লারের লিকেজ মেরামত করে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কৃষক ও ডিলাররা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দ্য ডেইলি স্টার বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।