রাজধানীর আদাবরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদা দাবির অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নয়নকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ঠিকাদারের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত নেতা এলাকার পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ উন্নয়নমূলক কাজে বাধা সৃষ্টি করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নয়নকে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
- একটি স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ উন্নয়নকাজ চলাকালে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
- ঘটনার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আদাবর থানা কমিটির ওই নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি এলাকার পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ উন্নয়নকাজে বাধা প্রদান এবং ঠিকাদারের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নয়নকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়ে আসছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় ভুক্তভোগী এক ঠিকাদারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আদাবর থানায় একটি নিয়মিত চাঁদাবাজির মামলা রুজু করা হয় এবং পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত নয়ন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আদাবর এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আসছিলেন। সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রেনেজ ও পয়োনিষ্কাশন নির্মাণকাজে দলীয় পরিচয়ের অপব্যবহার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং শ্রমিকদের মারধর করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ এক জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় দপ্তরের নির্দেশনায় অভিযুক্ত মো. নয়নকে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামಿಯನ್ನು আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রাজধানীর নির্মাণ খাত ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের কঠোর আইনি ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব কমবে এবং নগরীতে স্বাভাবিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।