দেশের বাজারে টানা চার দফা কমার পর এবার ভরিতে ২,২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এই দাম আজ থেকে কার্যকর হবে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২,২১৬ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ১৩ হাজার ২১৬ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৯৭ হাজার ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২ হাজার ৩৩০ টাকা এবং অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের বাজারে টানা চার দফা কমার পর এবার মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার বা পাকা সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে এই মূল্যবান ধাতুর দাম, যা সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে বিশ্ববাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বেশ কয়েক দফায় কমানো হয়েছিল। তবে বিশ্ববাজারে দামের সামান্য ওঠানামা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের চাহিদার কারণে এই দফায় দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বাজুস। সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভর করে দেশের ডমেস্টিক মার্কেটে স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়, যেখানে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই মূল্যতালিকা চূড়ান্ত করে থাকে।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও রূপার দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাজারে ক্যাটাগরি অনুযায়ী রূপার পূর্বের দর বহাল থাকায় ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করলেও সামগ্রিক স্বর্ণের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে আসন্ন বিয়ে ও উৎসবের মৌসুমে এই উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতারা কিছুটা বিপাকে পড়তে পারেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে স্বর্ণের বাজারে এই ধারাবাহিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে দেশের জুয়েলারি শিল্পে বিনিয়োগ ও বিক্রির পরিমাণে কিছুটা স্থবিরতা আসতে পারে। তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশের বাজারেও এর সুফল পাওয়া যাবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।