চার ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংক চালুর লক্ষ্যে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে নীতিগত অনুমোদন (LoI) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের ‘বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক’ ও ১০ ব্যাংকের কনসোর্টিয়াম ‘ডিজি১০’ উল্লেখযোগ্য। ১২৫ কোটি টাকা ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন নিয়ে এই ব্যাংকগুলো কোনো ভৌত শাখা ছাড়াই সম্পূর্ণ অ্যাপভিত্তিক ক্যাশলেস ব্যাংকিং সেবা ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করবে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যূনতম ১২৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের শর্তারোপ করেছে, যা প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের তুলনায় অনেক কম।
- প্রাথমিকভাবে ব্র্যাক ব্যাংকের ‘বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক’ এবং ১০টি বেসরকারি ব্যাংকের সম্মিলিত উদ্যোগ ‘ডিজি১০’ (Digi10) সহ মোট ৫টি প্রতিষ্ঠানকে লেটার অব ইনটেন্ট বা এলওআই দেওয়া হয়েছে।
- এই ব্যাংকগুলোর কোনো নিজস্ব শাখা, উপশাখা বা কাউন্টার থাকবে না; গ্রাহকরা শুধুমাত্র ডিজিটাল ডিভাইস ও অ্যাপ ব্যবহার করে আমানত রাখা এবং জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতের আধুনিকায়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দেশে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক’ এবং ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম ‘ডিজি১০’ (Digi10) সহ মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে লেটার অব ইনটেন্ট (LoI) প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ব্যাংকগুলো কোনো ভৌত অবকাঠামো বা শাখা ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গ্রাহকদের রিয়েল-টাইম ব্যাংকিং সেবা প্রদান করবে।
ডিজিটাল ব্যাংক পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। প্রতিটি ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য ন্যূনতম ১২৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যেখানে প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই মূলধনের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা। এই ব্যাংকগুলো মূলত ক্ষুদ্রঋণ, আমানত সংগ্রহ এবং বিল পরিশোধের মতো সেবাগুলো মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রদান করবে। কোনো চেক বই বা কাউন্টার সার্ভিস এখানে থাকবে না; লেনদেনের প্রধান মাধ্যম হবে কিউআর কোড বা ডিজিটাল ওয়ালেট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় জানানো হয়, মোট ৫২টি আবেদন জমা পড়লেও যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে মোবাইল অপারেটর রবির বিনিয়োগ সম্বলিত ‘বুস্ট’ এবং আরও কয়েকটি কনসোর্টিয়ামের নামও তালিকায় রয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানো সহজ হবে এবং সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ডিজিটাল ব্যাংক চালুর ফলে দেশে ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনের প্রক্রিয়া গতিশীল হবে। এটি লেনদেনের খরচ কমিয়ে আনবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) জামানতবিহীন ঋণ প্রাপ্তি সহজতর করবে। তবে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের তথ্যের সুরক্ষা প্রদানই হবে এই নতুন ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রধান চ্যালেঞ্জ। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এই ব্যাংকগুলো তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Banglanews24-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।