চীন ও ভারতের ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব পাশ কাটিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সাত থেকে আট বছর মেয়াদী এই প্রকল্পে চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার পরামর্শকদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে এবং প্রতি বছর দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখে ৭-৮ বছর মেয়াদে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হবে।
- প্রকল্পের নকশা, কারিগরি সম্ভাব্যতা ও অর্থায়নের বিষয়ে চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক পরামর্শকদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
- প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ১১০ কিলোমিটার নদী তীর রক্ষা, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
তিস্তা নদীর দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে চীন ও ভারতের ভূরাজনৈতিক কূটনীতির বেড়াজাল কাটিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। দীর্ঘকাল ধরে এই প্রকল্পটি বিভিন্ন দেশের প্রভাবে ঝুলে থাকলেও বর্তমান প্রশাসন নিজস্ব সম্পদ ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এটি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৪ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা এককালীন খরচ না করে ৭ থেকে ৮ বছর মেয়াদে প্রতি বছর দুই হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
প্রকল্পের কারিগরি দিক এবং নকশা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার পরামর্শকদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনার আওতায় প্রায় ১১০ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষা করা হবে। পাশাপাশি নদী ভাঙন রোধে ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হবে। ব্যাপক ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষি ও শিল্পের কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতের কোনো আপত্তি বা বিরোধিতা নেই। এছাড়া মার্কিন রাষ্ট্রদূতের তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনেও কোনো ভূরাজনৈতিক জটিলতা দেখছে না মন্ত্রণালয়। ভারতের সাথে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের চুক্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে নীতিনির্ধারক মহলের ধারণা।
এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরের ৫ জেলার কোটি মানুষ স্থায়ীভাবে বন্যা ও নদী ভাঙনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। নদী শাসন ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নতুন জমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে, যা তিস্তাপারের গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কৃষির উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাবে। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তিস্তা প্রকল্প উদ্বোধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, যা দেশের উত্তর অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।