বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনে জন্মহার হ্রাস পাওয়ায় শিশুর তুলনায় প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যার এই বিপরীতমুখী কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে দেশটির শ্রমবাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। কর্মক্ষম মানুষের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পারিবারিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চীনে বর্তমানে নবজাতক ও শিশুর সংখ্যার তুলনায় ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের প্রবীণ জনসংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাসের ফলে দেশটির বিশাল উৎপাদন খাত ও শ্রমবাজারে তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনকে প্রভাবিত করছে।
- প্রবীণদের চিকিৎসাসেবা, পেনশন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে পরিবার ও রাষ্ট্র উভয়কেই বিপুল পরিমাণ আর্থিক চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে জনসংখ্যার বয়সকাঠামোয় বড় ধরনের ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে। দেশটিতে এখন শিশুদের তুলনায় প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বেশি। দীর্ঘমেয়াদি এক সন্তান নীতির প্রভাব এবং বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সন্তান জন্মদানে অনীহার কারণে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর ফলে চীনের সমাজব্যবস্থা দ্রুত বয়োবৃদ্ধ হয়ে পড়ছে এবং দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত কয়েক দশক ধরে চীন বিশ্বের ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ বা কারখানা হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমান জনমিতিক পরিবর্তন সেই শক্তিতে আঘাত হানছে। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে হ্রাসের ফলে কলকারখানাগুলোতে দক্ষ শ্রমিকের সংকট দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে চীনা পণ্যের প্রতিযোগিতাবশত সক্ষমতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবৃদ্ধির এই মন্থর গতি কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকেই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতেও গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রণোদনা ঘোষণা করা হলেও তা জন্মহার বাড়াতে আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না। প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তাদের সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশন বাবদ সরকারের বাজেট বরাদ্দ রেকর্ড পরিমাণে বাড়াতে হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে, যা দেশটির ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অন্যান্য খাতের বিনিয়োগকে সংকুচিত করতে পারে।
জনমিতিক এই রূপান্তর কেবল অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জই নয়, বরং এটি ঐতিহ্যবাহী চীনা পারিবারিক কাঠামোর ওপরও বড় আঘাত হানছে। ‘৪-২-১’ নীতি অর্থাৎ একজন মাত্র সন্তানকে যেমন দুজন পিতা-মাতা এবং চারজন grandparent-এর দায়িত্ব নিতে হয়, সেই সামাজিক চাপ তরুণ প্রজন্মের ওপর মানসিক ও আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে দিয়েছে। সার্বিকভাবে, চীন যদি দ্রুত কার্যকর জনমিতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার আনতে ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি আধিপত্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।