৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চেইনাসহ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছেন। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশটি প্রায় ২৩ টন স্বর্ণ কিনেছে, যার ফলে মোট মজুত দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪১০ টনে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সরকারি ঋণ ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বেইজিং এই কৌশল নিয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পিপলস ব্যাংক অব চিনা (পিবিওসি) সেপ্টেম্বরে টানা ২৩তম মাসের মতো স্বর্ণ কিনেছে এবং ওই মাসে প্রায় ২৩ টন স্বর্ণ মজুতে যুক্ত করায় মোট সরকারি রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪১০ টনে।
- চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দেশটিতে স্বর্ণের বার ও মুদ্রা কেনার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ চলতি বছরের শুরুতে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পদ জব্দের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে চীন এই কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে চীন ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণের মজুত বৃদ্ধি করে চলেছে। পিপলস ব্যাংক অব চিনা (পিবিওসি) সেপ্টেম্বরে টানা ২৩তম মাসের মতো স্বর্ণ কেনার ঘোষণা দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ওই একক মাসেই চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ২৩ টন স্বর্ণ মজুতে যুক্ত করেছে, যার ফলে দেশটির মোট ঘোষিত স্বর্ণের মজুত বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৪১০ টনে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষে চীনের মোট সরকারি রিজার্ভের ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল স্বর্ণ, যা ২০২৪ সালের শেষে ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
এই ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনার পেছনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ সরকারি ঋণ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর বৈদেশিক সম্পদ জব্দের নজির বড় ভূমিকা রাখছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা বিশ্ব মস্কোর প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করে। এই ঘটনা প্রমাণ করেছে বিদেশে রাখা রিজার্ভ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। কমের্জব্যাংকের পণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান থু ল্যান নগুয়েনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ভূরাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হলে চীনের বৈদেশিক সম্পদও একই নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। তাছাড়া, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ঋণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা মার্কিন অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি চীনের সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বর্ণ কেনার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির দুর্বল শেয়ারবাজার এবং আবাসন খাতের দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখতে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দেশটিতে স্বর্ণের বার ও মুদ্রা কেনার হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। অথচ চলতি মাসে বৈশ্বিক বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের দাম প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। তা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ বাজারে সাধারণ মানুষের স্বর্ণ কেনার আগ্রহ কমেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন যেভাবে মার্কিন ট্রেজারি বা সরকারি ঋণপত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে, তা বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, চীনের এই পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যকে সম্পূর্ণ হটিয়ে দেবে না। তবুও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে চীনসহ গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য স্বর্ণ একটি নিরাপদ ও স্বাধীন বিকল্প সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, যার নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার ওপর ন্যস্ত।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Talash BD-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।