৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"চলতি বছরের আগামী নভেম্বর মাস থেকে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গাজীপুর চৌরাস্তায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘উল্কা’ সিনেমা হল। মানসম্মত নতুন সিনেমার মারাত্মক সংকট, দর্শক খরা এবং মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কারণে ক্রমাগত লোকসানের মুখে পড়ে হল কর্তৃপক্ষ এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের সাধারণ মানুষের বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম চিরতরে হারিয়ে যেতে বসেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গাজীপুরের চৌরাস্তায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘উল্কা’ সিনেমা হলটি আগামী নভেম্বর মাস থেকে চিরতরে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যার নেপথ্যে রয়েছে ক্রমাগত লোকসান ও দর্শক শূন্যতা।
- হলটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রফিক উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে যে সিনেমাগুলো মুক্তি পাচ্ছে তা দিয়ে হলের দৈনিক ও মাসিক বিদ্যুৎ বিলের টাকাও উঠছে না।
- উল্কা সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গাজীপুর জেলায় কেবল ‘বর্ষা’ ও ‘ঝুমুর’ এই দুটি হল কোনোমতে সচল থাকবে, যা ইতোমধ্যে ধুঁকে ধুঁকে চলছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মানসম্মত সিনেমার অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারার কারণে দেশের সিঙ্গেল স্ক্রিন সিনেমা হলগুলোর বেহাল দশা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী নভেম্বর মাস থেকে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গাজীপুর চৌরাস্তায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘উল্কা’ সিনেমা হল। হলটির রুপালি পর্দা পুরোপুরি গুটিয়ে নেওয়ার এই ঘোষণা গাজীপুরের চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশার সৃষ্টি করেছে।
উল্কা সিনেমা হলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রফিক উদ্দিন জানান, বর্তমানে হলটি কোনো রকমে ধুঁকে ধুঁকে চলছে এবং ক্রমেই লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে। বর্তমান বাজারে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো দর্শক টানতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় দৈনিক ও মাসিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল দুই ঈদের ওপর ভরসা করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভালো গল্পের ও পরিচিত তারকাসমৃদ্ধ সিনেমার মারাত্মক খরায় ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
বর্তমানে এই হলে কামরুজ্জামান পরিচালিত এবং জয় চৌধুরী ও মৌ খান অভিনীত ‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমাটি প্রদর্শিত হচ্ছে। গত শুক্রবার ১৪টি হলে মুক্তি পাওয়া এই বাণিজ্যিক সিনেমাটি প্রচারে ছাদখোলা বাসের মতো অভিনব কৌশল নেওয়া হলেও দর্শক টানতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। উল্কা ছাড়াও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সস্তা বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিনোদনের সুযোগ দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
মাত্র এক থেকে দেড় বছর আগেও গাজীপুরে হাতেগোনা চারটি সিনেমা হল সচল ছিল। উল্কা বন্ধ হয়ে গেলে জেলাটিতে কেবল ‘বর্ষা’ ও ‘ঝুমুর’ সিনেমা হল দুটি টিকে থাকবে, যা অত্যন্ত ধুঁকছে। একের পর এক এমন ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গেল স্ক্রিন হল বন্ধ হওয়া দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বাজার সংকোচন এবং স্থানীয় বিনোদন খাতের জন্য একটি বড় ধরনের অশনি সংকেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Channel i Online-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।