৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"কলকাতার সদ্য রঙিন করা চিংড়িঘাটা ও গড়িয়াহাট উড়ালপুলে বৃষ্টির কারণে বাইক পিছলে ঘনঘন দুর্ঘটনার জেরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দুর্ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর উড়ালপুলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতি ১০ মিটার অন্তর ক্যাটস আই বসালেও তীব্র যানজটের শিকার হচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রামধনু রঙে সাজানোর পর সামান্য বৃষ্টিতেই কলকাতার চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে মোটরসাইকেল স্কিড করে একাধিক দুর্ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
- দুর্ঘটনা এড়াতে এবং গাড়ির গতি কমাতে কলকাতার এই ব্যস্ত উড়ালপুলে ১০ মিটার অন্তর ক্যাটস আই বা রিফ্লেক্টর বসানোর জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।
- ক্যাটস আই বসানোর ফলে উড়ালপুলে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে এবং যাতায়াতের সময় ১০ মিনিট থেকে বেড়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ ২০ মিনিট হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিত্যযাত্রীরা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পুজোর ঠিক আগে কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত দুটি পথ গড়িয়াহাট ও চিংড়িঘাটা উড়ালপুলকে রামধনু রঙে রঙিন করে সাজিয়েছিল প্রশাসন। এই নতুন রূপের উদ্বোধনের পরই বৃষ্টির মধ্যে উড়ালপুলগুলিতে বাইক পিছলে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সিসিটিভি বা মোবাইল ভিডিও প্রকাশ পায়, যেখানে দেখা যায় বৃষ্টির সময় চলমান একটি মোটরসাইকেল পিছলে পড়ে তিনজন ছিটকে যাচ্ছেন। এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। শাসকদল ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে শহরের পরিবহন নিরাপত্তা এবং সড়ক নির্মাণশৈলীর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উড়ালপুল রাঙানোর সময় সড়কের পিচ্ছিলভাব রোধে অ্যান্টি-স্কিড কোটিং বা যথাযথ টেকনিক্যাল প্রটোকল মানা হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। সাধারণত আলকাতরা বা পিচঢালা রাস্তার ওপর সাধারণ প্রিমিয়াম পেইন্ট ব্যবহার করলে ভেজা অবস্থায় ঘর্ষণ গুণাঙ্ক (coefficient of friction) মারাত্মকভাবে কমে যায়, যার ফলে দ্রুতগামী দুই চাকার বাহনগুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এই কাঠামোগত ত্রুটির কারণে পুজোমুখর কলকাতায় জননিরাপত্তা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ করেন সাধারণ নাগরিক ও যাত্রীরা।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে কলকাতা প্রশাসন ও পূর্ত বিভাগ। দুর্ঘটনা রোধে জরুরি ভিত্তিতে চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের ওপরে ১০ মিটার অন্তর ক্যাটস আই বা রোড স্টাড বসানো হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল যানবাহনের গতি কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখা। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এ বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে এই ত্বরিত পদক্ষেপেও পুরোপুরি স্বস্তি মেলেনি, কারণ ক্যাটস আই বসানোর ফলে উড়ালপুলের ওপর যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।
ক্যাটস আই বসানোর ফলে সাময়িকভাবে দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিত্যযাত্রীরা। শুভময় দাস ও সত্যজিৎ পাল নামক দুই যাত্রী জানান, আগে যেখানে ১০ মিনিটে পার হওয়া যেত, এখন ট্রাফিক জ্যামের কারণে ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগছে। এছাড়া হঠাৎ ক্যাটস আই থাকায় দুই চাকার বাহনগুলো আরও বেশি ঝাঁকুনি খাচ্ছে এবং বাইকারদের মনে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করছেন, শুধুমাত্র ক্যাটস আই বসিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, বরং রাস্তার উপরিভাগের পেইন্ট তুলে ফেলে অবিলম্বে উপযুক্ত অ্যান্টি-স্কিড ও রাফ সারফেসিং প্রযুক্তির ব্যবহার করা জরুরি।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার ABP Ananda-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।