কলকাতার আলোচিত চোরবাগানকাণ্ডে ধৃত বাবু মজুমদারের করা ফেসবুক লাইভ ভিডিও ও আত্মসমর্পণ সংক্রান্ত ক্লিপগুলো রহস্যজনকভাবে মুছে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রী। এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাবু থানায় যাওয়ার আগে লাইভে ২৭ তারিখের আগে সামনে আসতে বারণ করার কথা বললেও, সেই সমস্ত পোস্ট এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে উধাও হয়ে গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চোরবাগানকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া বাবু মজুমদারের স্ত্রী দাবি করেছেন, তার স্বামীর ফেসবুক আইডি থেকে থানায় যাওয়ার ও আত্মসমর্পণ করার লাইভ ভিডিওগুলো কে বা কারা সম্পূর্ণ ডিলিট করে দিয়েছে।
- ফেসবুক লাইভে বাবু মজুমদার জানিয়েছিলেন যে, তাকে কেউ একজন ২৭ তারিখের আগে প্রকাশ্যে আসতে বা আত্মসমর্পণ করতে বারণ করেছিল এবং গা ঢাকা দিয়ে থাকতে বলেছিল।
- বাবুর স্ত্রী আরও জানান, ঘটনার দিন পুজোর মাঠ থেকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে বাবু তাকে প্যান্ডেলে যেতে নিষেধ করেন এবং কিছু মানুষ মারা যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে একটি গামছা ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরে বাড়ি থেকে বের হন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কলকাতার বহুল আলোচিত চোরবাগানকাণ্ডে নতুন মোড় নিয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মূল অভিযুক্ত বাবু মজুমদারের ফেসবুক লাইভ এবং আত্মরক্ষা সংক্রান্ত ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রহস্যজনকভাবে মুছে বা ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রী। এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ঘটনার দিন বাবু থানায় যাওয়ার ঠিক আগে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন এবং ফেসবুকে লাইভ করেছিলেন। সেই লাইভে বাবু দাবি করেছিলেন যে, তাঁকে কেউ বা কারা ২৭ তারিখের আগে সামনে আসতে বা আত্মসমর্পণ করতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই ভিডিওগুলো আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তদন্তের স্বার্থে এই ডিজিটাল প্রমাণ মুছে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাবুর স্ত্রীর ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন তীব্র বৃষ্টির মধ্যে বাবু হঠাৎ অত্যন্ত আতঙ্কিত অবস্থায় বাড়িতে ফেরেন। সে সময় তিনি স্ত্রীকে পুজোর মণ্ডপে যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করেন এবং এলাকায় কিছু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এরপর বাড়িতে নিজের মোবাইল ফোনটি রেখে কেবল একটি গামছা, হাফপ্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরে তড়িঘড়ি করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তিনি জানান যে তাঁকে আত্মগোপন করে থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে, পুজো কমিটির কেউ বা প্রভাবশালী কোনো মহলের ইশারায় বাবুকে গা ঢাকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বাবুর স্ত্রী সরাসরি কারো নাম প্রকাশ না করলেও, ইশারায় জানান যে এই নেপথ্যে পুজো কমিটি বা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাত থাকতে পারে। এমনকি বাবুকে দিয়ে মাইকে কোনো বিশেষ ঘোষণা দেওয়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও তাঁর স্ত্রীর কথায় ইঙ্গিত মিলেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে এবং কে বা কারা এই ফেসবুক লাইভ ও ভিডিওগুলো ডিলিট করল, তা সাইবার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চোরবাগানকাণ্ডের মতো একটি সংবেদনশীল ঘটনায় ডিজিটাল প্রমাণ এভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মামলার গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। অভিযুক্তের স্ত্রীর এই বিস্ফোরক দাবি পুলিশের তদন্তকে আরও গভীরে নিয়ে যাবে এবং নেপথ্যে থাকা প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ এখন বাবু মজুমদারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে নেপথ্যের কুশীলবদের মুখ থেকে আসল সত্য বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।