সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগান মণ্ডপে মর্মান্তিক বিপর্যয়ের ঘটনায় ধৃত দুই ঘোষক সঞ্জীব রাহা ও কুশল মজুমদারের ভয়েস স্যাম্পল সংগ্রহের জন্য আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজের অডিওর সঙ্গে গলা মিলিয়ে দেখতে ও বিভ্রান্তিকর মাইকিংয়ের নেপথ্য কারণ উদঘাটনে এই পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে ৬০ থেকে ৭০ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং ধৃতদের মুখোমুখি জেরা করার প্রস্তুতি চলছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- তদন্তে গতি আনতে ধৃত দুই ঘোষক সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু এবং কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়া-র কণ্ঠস্বরের নমুনা বা ভয়েস স্যাম্পেল সংগ্রহের জন্য আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।
- ঘটনার গভীরে গিয়ে পুলিশ দেখেছে যে মণ্ডপের বেরোনোর পথে আইন বহির্ভূতভাবে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক স্টল বসানো হয়েছিল, যা দর্শনার্থীদের গতিপথ অবরুদ্ধ করে।
- চোরবাগান কাণ্ডের তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত আহত ব্যক্তি, হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার ও স্থানীয় বাসিন্দা সহ ৬০ থেকে ৭০ জনের বয়ান রেকর্ড করেছেন তদন্তকারীরা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সপ্তমীর দিন চোরবাগান মণ্ডপে ঘটা মর্মান্তিক বিপর্যয়ের তদন্তে নেমে এবার আরও একধাপ এগোল পুলিশ। দুর্ঘটনার সময়ে মাইকে ভুল নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ধৃত সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু এবং অপর ঘোষণাকারী কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়া-র কণ্ঠস্বরের নমুনা বা 'ভয়েস স্যাম্পেল' সংগ্রহের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তদন্তকারীরা। অকুস্থলের উদ্ধার হওয়া একাধিক সিসিটিভি এবং ভিডিও ফুটেজের অডিও ট্র্যাকে ভেসে আসা আওয়াজের সঙ্গে এই দু’জনের গলা মিলিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালত থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি মিললেই ল্যাবরেটরিতে এই সমস্ত অডিও নথির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন হবে।
তদন্তের সূত্র ধরে লালবাজারের নজরে এসেছে বেশ কিছু বিস্ফোরক অনিয়ম। দেখা গিয়েছে, মণ্ডপের নিকাশি বা বেরোনোর পথে আইন বহির্ভূতভাবে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক স্টল বসানো হয়েছিল, যা মানুষের স্বাভাবিক গতিপথ অবরুদ্ধ করে। কারা এই অনুমোদনহীন দোকান বসানোর ছাড়পত্র দিয়েছিল, তা নিয়ে পুলিশি অনুসন্ধান চলছে। পাশাপাশি, চোরবাগান সর্বজনীনের থিম সাজসজ্জার এমন গঠন ছিল যে বাইরের আওয়াজ ভেতরে পৌঁছানো শক্ত ছিল; ফলে দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে কেন মণ্ডপ ভেঙে পড়ার মতো বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়া হল, তা সিসিটিভির সময়ের সূচির সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হতে চাইছে পুলিশ।
এদিকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল না—এমন দাবি জোরালোভাবে নস্যাৎ করেছে লালবাজার। পুলিশ জানিয়েছে, ৫০ জন অস্থায়ী হোমগার্ড, সাধারণ পুলিশ, সিভিল ভলান্টিয়ার ও বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী সহ মোট প্রায় ১৫০ জন কর্মী সেদিন ডিউটিতে ছিলেন। সাময়িক তদারকির জন্য একজন ইনস্পেক্টরের পাশাপাশি দু’জন আইপিএস পদমর্যাদার ডেপুটি কমিশনারকেও সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল। ঘটনার রহস্যভেদে সাক্ষ্যপ্রমাণের পরিধি বাড়িয়ে এখনও পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। এই দীর্ঘ তালিকায় রয়েছেন সেদিনের ঘটনায় আহত কয়েকজন ব্যক্তি, হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার, বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘোষণা সংক্রান্ত জট পাকাতে ধৃত দুই ঘোষক সেন্টু ও কালিয়াকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পরিকল্পনা নিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। কার নির্দেশে এবং ঠিক কোন সময়ে ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট করতে এই জেরাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে ব্যাঙ্কশাল আদালত ধৃতদের আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। সব তথ্য ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ একত্রিত করে শীঘ্রই একটি মজবুত চার্জশিট পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।