৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"দীর্ঘ ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার ১০৪৪ ভরি সোনা এবং ১০৮৮ ভরি রুপাসহ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও নগদ টাকা পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ১৮ জন বিচারক, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার কঠোর পরিশ্রমে এই সোনা ও রুপার সঠিক ওজন এবং হিসাব নিরূপণ সম্পন্ন হয়।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স ছয় বছর পর খোলার পর মোট ১০৪৪ ভরি সোনা এবং ১০৮৮ ভরি রুপা বা প্রায় ১২ কেজি স্বর্ণ ও সাড়ে ১২ কেজি রুপা পাওয়া গেছে।
- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা সহ প্রায় ১৮ জন বিচারিক হাকিম, মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষক মিলে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই গণনার কাজ সম্পন্ন করেন।
- স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কারের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এবং বিভিন্ন দেশের কয়েনও দানবাক্স থেকে উদ্ধার করা হয়েছে যা মসজিদটির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীর্ঘ ছয় বছর বিরতির পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হলে সেখানে জমা হওয়া সম্পদ দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও বিস্মিত হন। জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দানবাক্সগুলো থেকে নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই গণনাকাজে অংশ নেন ১৮ জন বিচারিক হাকিম, বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং রূপালী ব্যাংকের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
গণনা শেষে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ১০৪৪ ভরি সোনা এবং ১০৮৮ ভরি রুপা জমা হয়েছে, যার ওজন প্রায় ১২ কেজি স্বর্ণ এবং সাড়ে ১২ কেজি রুপার সমান। সাধারণত তিন থেকে চার মাস পর পর মসজিদের দানবাক্স খোলা হলেও করোনার মহামারী ও অন্যান্য অনিবার্য কারণে এবার দীর্ঘ ছয় বছর পর বাক্সগুলো খোলা হয়। এর ফলে প্রতিবারের তুলনায় এবার রেকর্ড পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও মূল্যবান ধাতু জমা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত সোনা ও রুপার সঠিক ওজন নির্ধারণের পর তা রূপালী ব্যাংকের ভল্টে নিরাপদ হেফাজতে জমা রাখা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা বিভিন্ন বস্তায় ভরে ব্যাংকে গণনা করা হচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারও প্রাপ্ত এই অর্থ মসজিদের উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি এতিমখানা, হেফজখানা এবং বিভিন্ন অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হবে বলে মসজিদ কমিটি নিশ্চিত করেছে।
কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদটি শুধু একটি ইবাদতখানা নয়, বরং এটি দেশের অন্যতম দানশীল ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সব ধর্মের মানুষ এখানে এসে মানত করেন এবং দানবাক্সে নগদ অর্থ ও সোনা-রুপা দান করেন। এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের কারণে দিন দিন এর গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা সাধারণ মানুষের কাছে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার প্রথম আলো-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।