মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরনগরের মতুয়াবাড়িতে গিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লক্ষ পিটিশনারের শুনানি শেষ করে সিএএ (CAA) সার্টিফিকেট প্রদান এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া, মতুয়া উন্নয়ন বোর্ডের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং ঠাকুরনগরকে পৌরসভা ঘোষণার ঘোষণা করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ পিটিশনারের শুনানি শেষ করে সিএএ (CAA) এর অধীনে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
- মতুয়া উন্নয়ন বোর্ড পুনর্গঠন করে চলতি অর্থবর্ষে বিশেষ উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ঠাকুরনগরকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
- তীরথক্ষেত্র সার্কিটের আওতায় একটি পূর্ণাঙ্গ মন্দির নির্মাণ করা হবে যার ভূমিপূজনে মুখ্যমন্ত্রী এবং উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এই প্রথমবার ঠাকুরনগরের পবিত্র মতুয়া বাড়িতে এসে মতুয়া সম্প্রদায়ের মন জয় করতে একগুচ্ছ যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার আয়োজিত মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে সিএএ-র জন্য প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদনকারী বা পিটিশনার রয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া ও শুনানি সম্পন্ন করে তাদের হাতে নাগরিকত্বের সিএএ সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হলে নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা করে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করারও পূর্ণ আশ্বাস দেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা থেকে মতুয়া ও তপশিলি সম্প্রদায়ের নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধী পক্ষ এই নিয়ে শাসকদলকে নিশানা করলেও, বর্তমান প্রশাসন মতুয়াদের পাশে থাকার বার্তা জোরালোভাবে দিয়েছে। এই সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী মতুয়া উন্নয়ন বোর্ড পুনর্গঠনের ঘোষণা করেন এবং এই অর্থবর্ষেই বোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরাসরি ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা জানান। বোর্ড নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গোঁসাই সমাজের কল্যাণে যেকোনো স্কিম গ্রহণ করতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের আবেগ ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে বেশ কিছু বড় পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী বাজেটে ঠাকুরনগরকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এছাড়া, তীর্থক্ষেত্র সার্কিটের অধীনে ট্রাস্টের জমিতে একটি বিরাট ও পূর্ণাঙ্গ মন্দির নির্মাণ করা হবে। এই নতুন মন্দিরের ভূমিপূজনে নিজে উপস্থিত থাকার এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর ঘোষণা দেন তিনি। বারুণী মেলা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও বিরোধ এড়াতেও সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
রাজ্যের রাজনীতিতে মতুয়া ভোট সবসময়ই একটি অত্যন্ত নির্ণায়ক ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বাম আমল থেকে শুরু করে পরবর্তীতে তৃণমূল এবং পরবর্তীতে বিজেপি প্রভাবিত মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণে এই নতুন ঘোষণাগুলি গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বারুণী মেলা নিয়ে বিগতদিনের রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করে মতুয়াদের প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় কেন্দ্রটিকে জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত করার এই সদিচ্ছা সার্বিকভাবে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।