নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে এসআইআর ইস্যুতে অননুমোদিত বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়িয়েছে আদালত। দিল্লি পুলিশ সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি মামলার তদন্তভার ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করেছে। আদালতে তাদের জামিনের আবেদনও খারিজ করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ককরোচ জনতা পার্টির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সহ মোট ১৪ জন সদস্য গত ১৩ অক্টোবর ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভেতর দিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা লঙ্ঘন এবং নিষেধাজ্ঞ অমান্য করার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ মামলা দুটির তদন্তভার ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং আদালত আসামিদের জামিনদারদের নিশ্চয়তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
- স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মন্তব্য করেছে যে সিজেপি নেতারা আইনের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা দেখাননি এবং সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করে নিষিদ্ধ এলাকায় জড়ো করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে এসআইআর (SIR) ইস্যুভিত্তিক বিক্ষোভের সময় আইন অমান্য ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়িয়েছে আদালত। দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর সিজেপির সদস্য সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্ক শিন্ডে সহ মোট ১৪ জন ব্যক্তি ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভেতর দিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে যন্তর মন্তরে পৌঁছান। উল্লেখ্য, যন্তর মন্তর এলাকাটিকে বর্তমানে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে গণ্য করা হয় না।
ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে মোতায়েন পুলিশকর্মীরা মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেন। এরপর পুলিশ মোট ১৪ জনকে আটক করে এবং তাদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক এফআইআর দায়ের করে। শান্তি রক্ষার মুচলেখা লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দাস ও রাঙ্কাকে প্রথম দফায় পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। সোমবার শুনানির সময় মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং আদালত দুই নেতার জামিনদারদের দেওয়া নিশ্চয়তা (Sureties) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
আদালতের শুনানিতে সিজেপি নেতাদের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয়। বিচারালয় পর্যবেক্ষণে জানায় যে, অভিযুক্ত নেতারা আইনের প্রতি কোনো শ্রদ্ধাই প্রদর্শন করেননি। পাশাপাশি পুলিশি তদন্তের বরাত দিয়ে আদালত উল্লেখ করে যে, সিজেপি নেতারা সাধারণ মানুষকে সুপরিকল্পিতভাবে সংগঠিত ও প্ররোচিত করেছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত যন্তর মন্তর এলাকায় জমায়েত হওয়ার জন্য। বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম লঙ্ঘন ঘটেছিল বলেও আদালতের নথিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এদিকে, সংগঠনের অন্যতম দুই নেতার কারাবাস ও আইনি লড়াইয়ের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে জানান যে, আশু ও সৌরভের প্রধান 'অপরাধ' ছিল যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা বা তিরঙ্গা ওড়ানো এবং কোনো অবস্থাতেই পিছু হটতে অস্বীকার করা। টানা পাঁচ দিন কারাবাসের পরও তাদের মনোবল অটুট রয়েছে এবং হাসিমুখে তারা আদালতে হাজিরা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।