চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্বরাষ্ট্রদফতর ও কলকাতা পুলিশ। আসন্ন কালীপুজোয় মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলো, পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান গেট এবং জরুরি পথ উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার আলিপুরের ধনধান্য স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠকে বসবে পুলিশ। ভিড় নিয়ন্ত্রণে ড্রোন ও সাদা পোশাকে নজরদারি চালানো হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পশ্চিমবঙ্গ স্বরাষ্ট্রদফতর ও কলকাতা পুলিশ কর্তৃক প্রকাশিত নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা SOP অনুযায়ী পুজো মণ্ডপ চত্বর কোনোভাবেই অন্ধকার রাখা যাবে না এবং জরুরি বহির্গমন পথে কোনো বাধা রাখা যাবে না।
- চোরবাগানের ঘটনার শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি পুজো কমিটিকে একজন করে নির্দিষ্ট 'ইনসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর' নিয়োগ করতে হবে এবং মাইকে স্পষ্ট ও শান্ত স্বরে নির্দেশ প্রচারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
- সোমবার আলিপুরের ধনধান্য স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশেষ প্রস্তুতি বৈঠকে কলকাতা পুলিশ সকল পুজো কমিটির সঙ্গে এই নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চোরবাগানের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর ক্ষত এখনও তাজা। এই পরিস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ শিক্ষা নিয়ে আসন্ন কালীপুজোয় কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্বরাষ্ট্রদফতর ও কলকাতা পুলিশ। রবিবার প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পুজো মণ্ডপ কোনোভাবেই অন্ধকার রাখা যাবে না। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে মণ্ডপে ঢোকা এবং বেরোনোর গেট আলাদা করে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে, যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করা সম্ভব হয়।
অতীতে মণ্ডপের ভিতরে অপর্যাপ্ত আলো, ইমার্জেন্সি গেটে তালা থাকা এবং অব্যবস্থাপনার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। সেগুলির পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন এসওপি-তে বলা হয়েছে, ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দিতে হবে। পাশাপাশি, ইমার্জেন্সি এক্সিটের সামনে কোনো বাধা রাখা যাবে না এবং বিদ্যুৎ বিপর্যয় মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে প্রতিটি পুজো কমিটিকে একজন করে 'ইনসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর' রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক এড়াতে মাইকে শান্ত ও সুনির্দিষ্ট ঘোষণা করতে হবে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে মণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে, পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশও।
সোমবার আলিপুরের ধনধান্য স্টেডিয়ামে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে পুজো কমিটিগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই বৈঠকে নির্দেশিকাগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হবে, যা উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।