দুর্গাপূজা চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বামেদের বুকস্টলে ভাঙচুর, বই পুকুরে ফেলে দেওয়া এবং বুলডোজার দিয়ে স্টল গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায় বামেদের বুকস্টল খোলার তীব্র বিরোধিতা করলেও, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে রাজনৈতিক অধিকার ও অসভ্যতা বলে অভিহিত করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায় প্রকাশ্যে বামেদের বুকস্টল ভাঙচুরের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, দুর্গাপূজার সময় পশ্চিমবঙ্গে বামেদের বইয়ের স্টল খুলতে দেওয়া উচিত নয়।
- সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, যারা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবি' বা বাংলার সংস্কৃতি বোঝে না, তারাই ফ্যাসিবাদের কায়দায় বই ধ্বংস করছে।
- বিজেপির একাংশের ভেতরেও এ নিয়ে মতপার্থক্য দেখা গেছে; রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বুকস্টল ভাঙচুর বা বুলডোজার চালানোর তীব্র নিন্দা করে একে অনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দুর্গাপূজার আনন্দমুখর পরিবেশের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বামপন্থী দলগুলোর বুকস্টলে নজিরবিহীন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কোথাও কোথাও বামেদের বই পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়, আবার কোথাও স্টল গুড়িয়ে দিতে বুলডোজার ব্যবহার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে, যেখানে শাসক ও বিরোধী দলের পাশাপাশি বিজেপি নেতাদের মধ্যেও ভিন্ন মত প্রকাশ পেয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের মাধ্যমে, যিনি দুর্গাপূজার সময় তথাকথিত কমিউনিস্টদের স্টল করতে না দেওয়ার পক্ষে মত দেন। পরবর্তীতে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায় এই অবস্থানকে সমর্থন করে প্রশ্ন তোলেন যে, কীভাবে বামেদের পূজার সময় স্টল খুলতে দেওয়া সম্ভব। তিনি অতীতে দলীয় মতাদর্শগত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে কট্টর হিন্দুবাদী অবস্থানের পক্ষে সওয়াল করেন।
তবে এই ঘটনায় বিজেপির ভেতরেই মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাজ্য বিজেপির তৎকালীন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী-রাজনীতিক স্বপন দাশগুপ্ত এই ধরনের ভাঙচুর ও বুলডোজার সংস্কৃতিকে কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। শমীক ভট্টাচার্য একে রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে অনুমতি সাপেক্ষে যে কেউ স্টল দিতে পারে এবং এই ধরনের অসভ্যতামি বরদাস্ত করা যায় না।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এই ঘটনাকে বিজেপির মৌরসীপাট্টা প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা বলে তোপ দাগেন। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় ১৯৩৩ সালে হিটলারের বই পোড়ানোর ঘটনার সঙ্গে এর তুলনা টেনে বুকস্টল ভাঙচুরকারীদের ফ্যাসিস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সামগ্রিকভাবে এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।