৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজা ও বিভিন্ন উৎসবে সিপিএমের বুকস্টল ভাঙচুর এবং লাল পতাকার স্টলে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক স্বপন দাশগুপ্ত। এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই হামলাকে অগণতান্ত্রিক ও লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবার রয়েছে এবং মার্কস-লেনিনের বই ময়লায় ফেলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন স্থানে বামেদের বুকস্টলে ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে একে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্বপন দাশগুপ্ত।
- এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নাস্তিকতাও হিন্দু ধর্মের অঙ্গ এবং সিপিএম যদি পূজার সময়ে স্টল করতে চায়, তাতে কোনো সমস্যা নেই।
- যারা বিজেপির নাম ভাঙিয়ে এই ধরনের গুন্ডামি ও হামলা চালাচ্ছে, তাদের কড়া ভাষায় নিন্দা করে একে 'পার্টি উইথ আ ডিফারেন্স' নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও শহরে দুর্গাপূজা বা অন্যান্য উৎসবে বামেদের ঐতিহ্যবাহী বুকস্টলে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সিপিএমের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপির নেতাকর্মীদের দায়ী করা হলেও, খোদ দলের আদর্শিক পরিমণ্ডলের পরিচিত মুখ ও বিশিষ্ট তাত্ত্বিক স্বপন দাশগুপ্ত প্রকাশ্যেই এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার পটভূমি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে পূজার দিনগুলোতে বামপন্থী দলগুলোর পক্ষ থেকে মার্কসবাদী সাহিত্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার বইয়ের স্টল দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই স্টলগুলো ভাঙচুর করার পাশাপাশি বইপত্র ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে চলেছে। বাম শিবিরের অভিযোগ, একশ্রেণির উগ্র রাজনৈতিক কর্মী এই তাণ্ডব চালাচ্ছে, যা মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বপন দাশগুপ্ত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সিপিএম এখন রাজনৈতিকভাবে বড় কোনো শক্তি না হলেও তাদের মতপ্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, লেনিন বা মার্কসের বই কারো পছন্দ না হলে তিনি তা নাও পড়তে পারেন, কিন্তু তাই বলে স্টল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া বা বই ময়লায় ফেলা চরম অন্যায়। এমনকি অভিযুক্তদের আক্রমণ করে তিনি বলেন, যারা দলের নাম ভাঙিয়ে এই ধরনের গুন্ডামি করছে, তারা আদতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয় ঘটাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও ডানপন্থী মতাদর্শের মানুষের এমন দ্ব্যর্থহীন অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা না থাকলে তা সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশকে কলুষিত করে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে সহনশীলতা ও বাকস্বাধীনতার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার ABP Ananda-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।