৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"দুর্গাপূজায় সিপিএমকে বুকস্টল তৈরির অনুমতি দেওয়ার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা গণতান্ত্রিক ভাবধারার বিরোধী। বনগাঁ ও নৈহাটিতে বুকস্টলের অনুমতি না দেওয়ায় দায়ের করা মামলার শুনানিতে আদালত পুলিশের কাছে পিডব্লিউডি জমির স্টল সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করেছে এবং আগামী বৃহস্পতিবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, সিপিএম লটারির দোকান নয়, বুকস্টল করতে চাইছে এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা গণতান্ত্রিক ভাবধারার পরিপন্থী।
- বনগাঁ ও নৈহাটিতে দুর্গাপূজার সময় বুকস্টল করার আবেদন জানিয়েছিল বামেরা, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ তাতে অনুমতি না দেওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
- আদালত রাজ্যকে সিপিএমকে স্টল তৈরির অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে পুলিশকে পিডব্লিউডি-র জমি সংক্রান্ত স্টলগুলোর বিষয়ে বৃহস্পতিবারের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দুর্গাপূজার প্রাক্কালে বামেদের বইয়ের স্টল স্থাপন নিয়ে আইনি লড়াই তুঙ্গে উঠেছে। বনগাঁ এবং নৈহাটিতে পূজামণ্ডপের কাছাকাছি এলাকায় বুকস্টল করার অনুমতি চেয়েছিল সিপিএম। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে সেই আবেদন নাকচ করায় জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন আদালত।
শুনানিকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানান, সিপিএম কোনো লটারির দোকান বা জুয়ার আসর বসাতে চাইছে না, তারা বই বিক্রি করতে চায়। রাজ্যের একচোখা নীতির সমালোচনা করে বিচারপতি বলেন, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে, যা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ভাবধারার বিরোধী। রাজ্য সরকারের নীতি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজ্যের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, সিপিএম যেখানে স্টল করতে চাইছে সেই জমিটি পূর্ত দপ্তরের (PWD)। এর জবাবে বাম শিবিরের আইনজীবীরা পাল্টা জানান, তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনেই 'হিন্দু জাগরণ মঞ্চ'-এর মতো সংগঠনের স্টল তৈরি করা হয়েছে। তখন আদালতের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়, বাকি সমস্ত স্টল কি পিডব্লিউডি-র অনুমতি নিয়ে তৈরি হয়েছিল? বিচারপতির আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে বন্দুক দিয়ে বেলুন ফাটানোর স্টল বা অন্যান্য বিনোদনমূলক দোকান ঠিকই গড়ে উঠেছে, অথচ বইয়ের স্টল করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এই আইনি সংঘাতে আদালত রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে সিপিএমকেও অবিলম্বে বুকস্টল বানানোর অনুমতি দিতে। একইসঙ্গে, সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ প্রশাসনকে পিডব্লিউডি-র জমিতে গড়ে ওঠা সমস্ত স্টলের বৈধতা ও অনুমতি সংক্রান্ত বিশদ রিপোর্ট আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের ফলে দুর্গাপূজার সময় রাজনৈতিক ময়দানে বইয়ের স্টল চালুর বিষয়ে নতুন মোড় এল।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার ABP Ananda-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।