গাজীপুরের কালীগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীকে (১২) দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুর হঠাৎ পেটব্যথা শুরু হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয় এবং চিকিৎসকদের মাধ্যমে তার গর্ভপাত সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছরের এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
- হঠাৎ অতিরিক্ত পেটব্যথা অনুভব করায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং পরবর্তীতে গর্ভপাত করান।
- এজাহারনামীয় ও ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের মর্মান্তিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। প্রায় ১২ বছর বয়সী ওই শিশুটি গত পাঁচ মাস ধরে স্থানীয় কিছু কুচক্রী দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে প্রভাবশালী মহল ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত অসুস্থতার জেরে তা প্রকাশ্যে আসে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শিশুটির হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা শুরু হলে তার মা তাকে স্থানীয় এক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ও নার্সরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তীতে তার গর্ভপাত করানো হয়। এই লোমহর্ষক তথ্য জানার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। মামলার ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত সন্দেহে এজাহারভুক্ত তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং ভুক্তভোগী শিশুটিকে বর্তমানে পুলিশি সুরক্ষায় চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিশু অধিকার রক্ষা কর্মীরা এ ধরনের heinous অপরাধের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন নৃশংসতার শিকার হতে না হয়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিবন্ধী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের সুরক্ষায় পরিবার ও সমাজকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।