৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"২৪ দিন ধরে চলা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। ১৬ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হওয়ায় এবং শিক্ষার্থীদের শাটডাউন ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির কারণে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এর মধ্যে আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। আবাসিক হলগুলোর ডাইনিং ও ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য প্রবেশকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের আজ ২৪ দিন অতিবাহিত হলেও প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ থমকে আছে।
- ১৬ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের 'শাটডাউন' ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকায় ক্যাম্পাসের ৯টি আবাসিক হলের সবকটি ডাইনিং ও টিএসসি ক্যান্টিন বন্ধ রয়েছে।
- আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের প্রতিবাদে এবং আওয়ামী লীগ ও চুয়েট ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজের সমর্থন প্রত্যাখ্যান করে ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চলমান আন্দোলনের মাঝেই উপাচার্য প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করলেও গত দুই দিন ধরে বড় কোনো রাজপথের কর্মসূচি নেই। তবে দৃশ্যমান কর্মসূচি না থাকলেও শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত 'শাটডাউন' কর্মসূচি এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের লাগাতার কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনের ২৪ দিন পার হয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর সমাধানের পথ মেলেনি। এর ফলে চুয়েটের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।
এদিকে আজ ১৬ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হওয়ায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। হলপাড়াগুলোতে এখন শুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় এবং ছুটির কারণে শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যাওয়ায় আবাসিক হলগুলোর ৬টি পুরুষ ও ৩টি নারী হলের ডাইনিং পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সীমিত পরিসরে চলা টিএসসি ক্যান্টিনটিও বৃহস্পতিবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বাইরের হোটেল ও খাবারের দোকানের ওপর নির্ভর করছেন।
উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকে রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সরকারপন্থী বা বিরোধী—কোনো পক্ষের রাজনৈতিক বয়ানের কাঁচামাল নয় চুয়েটের শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য আন্দোলন। বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও চুয়েট ছাত্রলীগের নামে পরিচালিত ফেসবুক পেজ থেকে আন্দোলনকে সমর্থন জানানোর বিষয়টি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা। শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই রাজনৈতিক সমর্থন তারা কখনো আহ্বান বা অনুমোদন করেননি এবং তাদের আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার কারও নেই।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুলকারনাইন মিহাদ জানিয়েছেন, ছুটিতে শিক্ষার্থীরা বাসায় চলে যাওয়ায় এই দুই দিন বড় কোনো কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি। ২৬ অক্টোবরের মধ্যে যদি সংকটের সমাধান না আসে, তবে ছুটির পর আবারও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা চালালে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে সতর্ক করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক যুগান্তর-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।