বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নিয়ে আগামী বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মাঝে আঘাত হানতে পারে। স্থলভাগে এর সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গসহ দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' আগামী বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মাঝে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে, যার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির জন্য তামিলনাড়ু, কেরালা ও অন্ধ্রপ্রদেশে রেড অ্যালার্ট এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে।
- ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা সহ উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে মঙ্গলবার থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দুর্যোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দক্ষিণবঙ্গের আকাশ ও বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে তৈরি হয়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। আলিপুর আবহাওয়া দফতর ও ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপটি অতি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এই ঝড়ের সম্ভাব্য মূল অভিমুখ দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল হলেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। আগামী বুধবার সকালে ঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়টি যখন স্থলভাগে আঘাত হানবে, তখন এর বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই দুর্যোগের তীব্রতা বজায় থাকতে পারে। এর প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু, কেরালা, পুদুচেরি, কর্ণাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ওড়িশা, ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোতেও অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতা সহ রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে আজ বিকেল থেকেই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এই সম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর প্রশাসনিক যন্ত্রকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। উত্তর ভারতে ইতোমধ্যে হালকা শৈত্যপ্রবাহের আমেজ শুরু হলেও বঙ্গোপসাগরের এই ঘূর্ণিঝড় পুরো অঞ্চলের আবহাওয়া চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও যাতায়াতে যাতে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে এবং ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায়, সে জন্য জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।