ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে শক্তি সঞ্চয় করে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোচ্ছে নতুন ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু'। আগামী মঙ্গলবার সকালে অন্ধ্র উপকূলে এর ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের দেওয়া নামকরণে এই ঝড়ের সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে না থাকলেও, আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা নতুন ঘূর্ণিঝড়টির নাম 'মুরাসু', যার নামকরণ করেছে ভারত এবং এটি আগামী মঙ্গলবার সকালে উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
- পূর্ববর্তী ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
- মুরাসু'র প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে সরাসরি কোনো সতর্কতা জারি করা না হলেও, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও দুই ২৪ পরগনা সহ ৯-১০টি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে বঙ্গোপসাগরে ফের এক নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে তাণ্ডব চালানো ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর রেশ কাটতে না কাটতেই তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু'। রবিবার দুপুরেই গভীর নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী সোমবার ঝড়ের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং মঙ্গলবার সকালে এটি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি কোথাও আছড়ে পড়তে পারে। এর আগের দুর্যোগে অন্ধ্র ও ওড়িশা থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যা বিপর্যয় মোকাবিলার এক বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল।
মৌসম ভবন ও আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, এই নতুন ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু'র সরাসরি কোনো বড় প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে এর পরোক্ষ প্রভাবে সোমবার ও মঙ্গলবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আবহাওয়া পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া—এই ৯ থেকে ১০টি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবারের পর বুধবার থেকে আবহাওয়া ফের শুষ্ক হতে শুরু করবে এবং আগামী শনিবার পর্যন্ত তা বজায় থাকবে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে মৎস্যজীবীদের জন্য কোনো বিশেষ সতর্কতা জারি করা না হলেও, আগামী ২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ওড়িশা উপকূল এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়া ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট জলসীমায় সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে অন্ধ্রপ্রদেশসহ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানীয় জল, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবাগুলো যাতে দ্রুত স্বাভাবিক রাখা যায়, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি চলছে। আবহাওবিজ্ঞানীরা ঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতার ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ বজায় রেখেছেন, যাতে যেকোনো পরিস্থিতির দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।