বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনাচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু'। আগামী মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর ও নারসাপুরের মাঝে এর ল্যান্ডফলের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘূর্ণাবর্ত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আজ রবিবার ১ নভেম্বর থেকে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়েছে। হাওয়া অফিস ইতোমধ্যে একাধিক জেলায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার হলুদ সতর্কতা জারি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় 'মুরাসু' আগামী মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর ও নারসাপুরের মাঝে উপকূল অতিক্রম বা ল্যান্ডফল করতে পারে।
- ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১ নভেম্বর উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানে ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
- দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারসহ উত্তরবঙ্গের উপরের ৫ জেলায় ১ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎসহ হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বঙ্গোপসাগরে ফের একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় দানা বাঁধছে যার নাম দেওয়া হয়েছে 'মুরাসু'। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই ঘূর্ণাবর্তটি ঘণীভূত হয়ে সোমবারই অন্ধ্র উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে এর ল্যান্ডফলের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' বিদায় নেওয়ার পরপরই দক্ষিণ আন্দামান সাগরে এই নতুন আবহাওয়া সিস্টেম তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে শক্তি সঞ্চয় করে এই ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়।
অক্টোবরের শেষ এবং নভেম্বরের শুরুর এই সময়টিকে আবহাওয়াবিদরা ক্রান্তীয় ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ সৃষ্টির আদর্শ সময় হিসেবে বিবেচনা করেন। এই সামুদ্রিক দুর্যোগের প্রত্যক্ষ প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতেও আবহাওয়া পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার ১ নভেম্বর থেকেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হাল্কা থেকে মাঝারি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১ নভেম্বর দক্ষিণবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই দিনে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার—এই পাঁচিটি জেলার বিভিন্ন স্থানেও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
আগামী ২ ও ৩ নভেম্বর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়ের কোনো সতর্কবার্তা না থাকলেও হাল্কা থেকে মাঝারি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ৪ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া মূলত শুষ্ক ও স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। তবে উপকূলীয় অঞ্চলে এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।