মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল নিশ্চিত করেছেন যে, বিতর্কিত ইসলামি বক্তা ডা. জাকির নায়েককে ভারতের হাতে তুলে দেবে না কুয়ালালামপুর। ২০১৬ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় স্থায়ী রেসিডেন্সি (PR) প্রাপ্ত এই ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে ভারতে অর্থপাচার ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ থাকলেও, মালয়েশিয়া সরকার তাকে ফেরত পাঠানোর কোনো আইনি ভিত্তি বা প্রয়োজনীয়তা খুঁজে পায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল স্পষ্ট করেছেন যে, ডা. জাকির নায়েক মালয়েশিয়ার কোনো অভ্যন্তরীণ আইন লঙ্ঘন করেননি এবং তাকে ফেরত পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
- ২০১৬ সাল থেকে ডা. জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং ভারত সরকার ২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে ১৯৩ কোটি রুপির অর্থপাচার ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে রেড কর্নার নোটিশ জারির অনুরোধ করেছিল।
- মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে যে, ভারতের বিচার ব্যবস্থায় জাকির নায়েকের ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা এবং তার জীবনের নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনা করেই তাকে হস্তান্তরের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও বিতর্কিত ইসলামি বক্তা ডা. জাকির নায়েককে নয়াদিল্লির হাতে তুলে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, জাকির নায়েক মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। ফলে তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা যৌক্তিক কারণ দেখছে না কুয়ালালামপুর সরকার। এই ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে মালয়েশিয়া তাদের পূর্ববর্তী অবস্থানেই অটল থাকল।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে ডা. জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তার বিরুদ্ধে ১৯৩ কোটি রুপির অর্থপাচার এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করেছে। ২০১৭ সালে ভারত সরকার তার পাসপোর্ট বাতিল করে এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড কর্নার নোটিশ জারির চেষ্টা চালায়। তবে মালয়েশিয়া সরকার শুরু থেকেই তাকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আদলে সুরক্ষা দিয়ে আসছে এবং ভারতের অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতের পক্ষ থেকে হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হলেও দেশটির বিচার ব্যবস্থার ওপর মালয়েশিয়ার আস্থার অভাব এবং জাকির নায়েকের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর আগে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদও একই অবস্থান ব্যক্ত করেছিলেন। বর্তমান আনোয়ার ইব্রাহিম সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে বিদেশি রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলেও, কুয়ালালামপুর তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ডা. জাকির নায়েকের অনুসারীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় অবস্থান করে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অন্যদিকে, ভারত সরকার আন্তর্জাতিক মহলে এই ইস্যুটি নিয়ে চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।