শতবর্ষী ঐতিহ্য বজায় রেখে দেবহাটার ইছামতি নদীর বুকে অনুষ্ঠিত হলো বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন। তবে দুই পারের মিলনমেলা ও নৌকায় ভিড় জমানোর ঐতিহ্য এ বছর প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও নিরাপত্তার কারণে সীমিত রাখা হয়। আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারণী দড়ির দুই পাশে অবস্থান করে দুই বাংলার সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণভাবে মায়ের বিদায় জানান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দেবহাটার ইছামতি নদীর মোহনায় শতবর্ষী মিলনমেলা না হলেও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে।
- সীমান্তবর্তী নদীর বুক চিরে আড়াআড়ি দড়ি টানানো হয় এবং কেবল সনাতনীরাই প্রতিমা স্পর্শ করতে পারবেন বলে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
- চোরবাগান বিপর্যয়ের পর রাজ্যের চার প্রান্তে নিরাপত্তা তদারকিতে ১৮ জন আইপিএস আধিকারিককে মাঠে নামায় প্রশাসন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে সাতক্ষড়ার দেবহাটা সংলগ্ন ইছামতি নদীর বুকে অনুষ্ঠিত হলো বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন। তবে ঐতিহ্যের শতবর্ষী মিলনমেলা এবং দুই পারের মানুষের অবাধ মেলামেশা ছাড়াই এবার বিষাদের সুরের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এই আনুষ্ঠানিকতা। আন্তর্জাতিক সীমানা বিধি ও নিরাপত্তার খাতিরে দুই বাংলার মানুষ নদীর নিজ নিজ জলসীমায় থেকে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করেন।
এবারের বিসর্জন উৎসবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কেবল সনাতনী ধর্মাবলম্বী ও নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরাই প্রতিমা স্পর্শ করার সুযোগ পান। চোরবাগানসহ বিভিন্ন স্থানে অতীতের অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে কলকাতা সহ রাজ্যের চার প্রান্তে ১৮ জন আইপিএস আধিকারিককে নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়।
ইছামতির বুকে এপার বাংলার টাকিতে প্রতিমা নিরঞ্জনের নানা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন দেখা গেলেও ওপারে ছিল বিষাদের আবহ। নদীর মাঝখানে জলসীমায় টাঙানো দড়ির দুই পারে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান। তবে গত কয়েক দশকের ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা ও নৌকা নিয়ে কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ না থাকায় ভক্তদের মাঝে কিছুটা ক্ষোভ ও আক্ষেপ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল।
প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবারের প্রতিমা বিসর্জন। নদীকেন্দ্রিক এই ঐতিহাসিক আচার-অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতে দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এবং সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।