প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে দেশ গড়তে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার ওপর জোর দেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
- অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রুসহ শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
- বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে একটি বৈষম্যহীন ও শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই দেশ আপনার, আমার, আমাদের সবার। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান হতে পারি, কিন্তু আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।’ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাষ্ট্র একজন মুসলমান নাগরিককে যে অধিকার দেবে, অন্য ধর্মের নাগরিকদেরও ঠিক একই অধিকার দেবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জানান, একই দিনে সকালে তিনি রংপুর এবং দুপুরে রাজশাহীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। সব জায়গায় তিনি একই বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নতুন বা পুরাতনের নয়, বরং দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, সেদিন যুদ্ধের মাঠে বা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কে কোন ধর্মের, তা দেখা হয়নি। সবার লক্ষ্য ছিল একটি স্বাধীন, বৈষম্যহীন ও শান্তিময় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।
দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক কারণে বিদেশে থাকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি একজন নাগরিক হিসেবে যা অধিকার ভোগ করবেন, অন্য সব নাগরিকেরও ঠিক একই অধিকার প্রাপ্য। কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্ম ও মতের মানুষকে দলমতনির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে, স্বাগত বক্তব্যে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলা সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এই মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও সম্প্রীতির বার্তা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।