অতিরিক্ত শুল্ক ও মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় দেশের বাজারে ফল কেনা এখন সাধারণ মানুষের জন্য বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। আমদানির পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও চড়া দামের কারণে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে ফল। ফল আমদানিতে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ালেও সাধারণ ভোক্তাদের পকেট কাটছে আকাশছোঁয়া দাম।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ফল আমদানিতে মাত্রাতিরিক্ত শুল্ক ও করের কারণে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
- বাজারের তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত আমদানি হওয়া সত্ত্বেও চড়া দামের কারণে আপেল, আঙুর ও মাল্টার মতো আমদানিকৃত ফল কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
- বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশছোঁয়া দামের ফলে পুষ্টির উৎস হিসেবে বিবেচিত ফলমূল এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের খাদ্যতালিকা থেকে ক্রমান্বয়ে বাদ পড়ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের বাজারে ফল কেনা এখন সাধারণ মানুষের জন্য একটি বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু নয়। বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলের আমদানি লক্ষ্য করা গেলেও উচ্চ শুল্ক এবং মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে দাম কমছে না। ফল কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে এবং পুষ্টির জোগান দেওয়া এই খাদ্যপণ্যটি এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ফল আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে সরকারের উচ্চহারে শুল্ক ও কর আরোপের ফলে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, শুধু ফল আমদানি খাত থেকেই সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। কিন্তু এই চড়া শুল্কের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য ফল কেনা প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।
পুষ্টিবিদ ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সুষম খাদ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ফলমূল সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকা থেকে ছিটকে পড়ায় জনস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও রোগীদের পুষ্টির চাহিদা মেটানো যেখানে জরুরি, সেখানে লাগামহীন দামের কারণে তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বাজার পর্যবেক্ষক ও সাধারণ ক্রেতারা সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের কাছে ফল আমদানির শুল্ক হ্রাসের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই খাদ্যপণ্যটিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কার্যকর বাজার মনিটরিং এবং কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা এখন সময়ের দাবি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।