দেশে হামে মৃত্যু হাজার ছাড়ালো
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"দেশে সংক্রামক ব্যাধি হামে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও প্রান্তিক জনপদে টিকাদানের ঘাটতির কারণে শিশুরাই এই প্রাণঘাতী সংক্রমণের প্রধান শিকারে পরিণত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে দেশব্যাপী সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং আক্রান্তদের দ্রুত নিবিড় চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যমতে দেশে হাম ও জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার অতিক্রম করেছে, যার সিংহভাগই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু।
- পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান এবং প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে নির্ধারিত সময়ে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার ডোজ না পাওয়া জনগোষ্ঠীতে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।
- হামের বিস্তাররোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন এবং মাঠপর্যায়ে পুষ্টি সহায়তা ও ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল বিতরণ জোরদার করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ায় এতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও মহামারি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গত কয়েক মাসে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি সময়মতো চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে এই জটিলতা মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল, দুর্গম চর ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর মধ্যে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার নিয়মিত কাভারেজ ব্যাহত হওয়ায় এ রোগের বিস্তার ঘটছে। শৈশবে নির্ধারিত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুটি এমআর টিকার ডোজ গ্রহণ না করা শিশুরা হামের জটিলতায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগে মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। ভৌগোলিক দূরত্ব ও সচেতনতার অভাবে অনেক পরিবারই আক্রান্ত শিশুদের যথাসময়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসছে না।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তর ইতিমধ্যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়নগুলোতে বিশেষ পর্যবেক্ষণ টিম পাঠিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম, সেখানে অতিরিক্ত টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে অ্যান্টিবায়োটিক, ওআরএস এবং উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় একজন আক্রান্ত শিশু থেকে দ্রুত অন্য শিশুদের মাঝে এ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে প্রান্তিক পর্যায়ে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগে উন্নীত করার পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। অভিভাবকদেরও শিশুর জ্বর ও শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়া মাত্র নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Banglanews24-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।