৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে, সাইবার বুলিংয়ের শিকার প্রতি ১০০ কিশোরীর ৩১ জনের মধ্যেই গুরুতর বিষণ্নতা বা মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারের লক্ষণ রয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়, সাইবার বুলিংয়ের শিকার কিশোরীদের বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অন্যান্যের তুলনায় চার গুণ বেশি।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আইসিডিডিআরবি এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই গবেষণাটি ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট 'স্প্রিংগার নেচার' লিংকে প্রকাশিত হয়।
- গবেষণায় ৪ হাজার ৯৮৪ জন কিশোরীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সাইবার বুলিংয়ের শিকার কিশোরীদের ৩১ শতাংশের মধ্যে মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার (এমডিডি) বা গুরুতর বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে।
- অঞ্চলভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সাইবার বুলিংয়ের হার সবচেয়ে বেশি বরিশালে ১৩ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম সিলেটে মাত্র ৪ শতাংশ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশে কিশোরীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় সাইবার বুলিং এবং গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যৌথভাবে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। গত ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট প্রখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী স্প্রিংগার নেচার লিংকে প্রকাশিত এই গবেষণায় সাইবার বুলিংয়ের শিকার কিশোরীদের মধ্যে মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার (এমডিডি) বা গুরুতর বিষণ্নতার উচ্চ হারের বিষয়টি প্রকাশ পায়।
গবেষণায় ৪ হাজার ৯৮৪ জন কিশোরীর সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে ১২ শতাংশ কিশোরীর মধ্যে এমডিডির লক্ষণ থাকলেও, যারা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ শতাংশে। গবেষকদের মতে, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হননি এমন কিশোরীদের তুলনায় এর ভুক্তভোগীদের গুরুতর বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় চার গুণ বেশি। অনলাইনে হয়রানির মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির ঝুঁকিও সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অঞ্চলভেদে সাইবার বুলিংয়ের হারে উল্লেখযোগ্য তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। জরিপ অনুযায়ী, বরিশালে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ কিশোরী সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়। এ ছাড়া রংপুরে ১১ শতাংশ, ময়মনসিংহে ১০ শতাংশ, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে ৮ শতাংশ এবং ঢাকায় ৬ শতাংশ কিশোরী এই হয়রানির মুখোমুখি হয়। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম ৪ শতাংশ কিশোরী সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে সিলেটে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অবিবাহিত কিশোরীদের বুলিংয়ের ক্ষেত্রে বন্ধু বা সহপাঠীদের সম্পৃক্ততা বেশি থাকলেও, বিবাহিত বা পূর্বে বিবাহিত ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কিশোরী স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মাধ্যমেও হয়রানির শিকার হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সাইবার বুলিং প্রতিরোধে এবং এর ফলে সৃষ্ট মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সহজে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং দ্রুত কাউন্সেলিং সেবা চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভুক্তভোগী কিশোরীদের ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ বা দোষারোপ করা থেকে বিরত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ইউনিটের আইনি সহায়তা এবং পেশাদার মানসিক চিকিৎসা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।