রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবুধাবি থেকে ফেরত নিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা মূল্যের ছয়টি স্বর্ণের ডিম জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। কাঙ্ক্ষিত বাজারমূল্য না পাওয়ায় স্বর্ণের এই হস্তশিল্পগুলো পুনরায় মধ্যপ্রাচ্যে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা মূল্যের ৬টি স্বর্ণের ডিম জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
- আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে আমদানির পর স্থানীয় বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম বা ক্রেতা না পাওয়ায় স্বর্ণের আইটেমগুলো পুনরায় মধ্যপ্রাচ্যে ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
- জব্দকৃত স্বর্ণের মোট ওজন এবং কাস্টমস ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা মূল্যের ছয়টি স্বর্ণের ডিম জব্দ করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মূল্যবান এই চালানটি দেশ থেকে বাইরে পাচার বা পুনরায় আবুধাবি ফেরত নেওয়ার অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাহরাইন বা আবুধাবি থেকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে স্বর্ণের এই হস্তশিল্পগুলো বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় বাজারে আমদানিকারকরা এর কাঙ্ক্ষিত মূল্য বা উপযুক্ত ক্রেতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত চালানটি আবার আবুধাবিতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। আর এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চালের মাঝেই শুল্ক গোয়েন্দাদের জালে আটকা পড়ে স্বর্ণের ডিমগুলো।
শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমদানিকৃত এই স্বর্ণের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক-কর এবং এর বৈধ নথিপত্র নিয়ে শুরু থেকেই অসঙ্গতি ছিল। চালানটি পুনরায় রপ্তানির বা ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে কাস্টমসের নিয়মনীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জব্দকৃত স্বর্ণের সঠিক ওজন ও বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্য সরকারি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনা দেশের আমদানি-রপ্তানি ও বিমানবন্দর কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মূল্যবান ধাতু আমদানির আড়ালে এ ধরনের চালানের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর পেছনে কোনো চোরাচালান সিন্ডিকেট জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটনে শুল্ক গোয়েন্দা ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যৌথ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।