লাইভ
তাৎক্ষণিক ৬০ শব্দের সংবাদ ও ২৪/৭ লাইভ টিভি স্ট্রিমিং
প্লে-স্টোর অ্যাপ
বিজ্ঞাপন

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা হচ্ছে ৮০০ বছর ধরে, আদি প্রতিমা কলকাতায়

প্রতিবেদক / উৎস: প্রথম আলো | তারিখ: 18 অক্টোবর 2026, 03:40 রাত | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 31 বার পঠিত
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা হচ্ছে ৮০০ বছর ধরে, আদি প্রতিমা কলকাতায়
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ

"দ্বাদশ শতাব্দীতে সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের প্রতিষ্ঠিত ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রায় ৮০০ বছর ধরে নিয়মিত পূজা চলছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর নিরাপত্তার স্বার্থে মন্দিরের প্রায় দেড় ফুট উচ্চতার স্বর্ণমণ্ডিত আদি অষ্টধাতুর বিগ্রহটি গোপনে বিমানে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়, যা বর্তমানে কুমারটুলির মন্দিরে পূজিত হচ্ছে।"

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • দ্বাদশ শতাব্দীতে সেন রাজা বল্লাল সেন কর্তৃক বুড়িগঙ্গার তীরে প্রতিষ্ঠিত ঢাকেশ্বরী মন্দির বর্তমানে বাংলাদেশের ‘জাতীয় মন্দির’ হিসেবে স্বীকৃত।
  • ১৯৪৭ সালে দেশভাগের উত্তাল পরিস্থিতিতে প্রধান পুরোহিত হরিহর চক্রবর্তীর উদ্যোগে আদি প্রতিমাটি গোপনে বিমানে কলকাতা নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে কুমারটুলিতে স্থায়ীভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
  • ঢাকায় অবস্থিত মূল মন্দিরে বর্তমানে আদি বিগ্রহের আদলে নির্মিত প্রতিরূপ প্রতিমায় শারদীয় দুর্গাপূজাসহ নিত্য পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ঐতিহাসিক ও সনাতন ঐতিহ্যের অনন্য প্রতীক হিসেবে পরিচিত ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে একটানা প্রায় আট শতাব্দী ধরে নিয়মিত পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দ্বাদশ শতাব্দীতে সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে গভীর জঙ্গল থেকে ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় থাকা দেবী দুর্গার মূর্তি উদ্ধার করে এ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন বলে প্রচলিত রয়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে, ‘ঢাকা’ শব্দের অন্যতম এক উৎসের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নাম। তবে দীর্ঘ আট শতক ধরে ঢাকায় পূজার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকলেও মন্দিরের আদি বিগ্রহটি আজ আর বাংলাদেশে নেই; প্রায় পৌনে এক শতাব্দী ধরে সেটি অধিষ্ঠিত রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়।

ইতিহাস ও মন্দির ট্রাস্টের নথি অনুযায়ী, প্রায় দেড় ফুট উচ্চতার আদি বিগ্রহটি ছিল দুর্লভ অষ্টধাতু নির্মিত ও স্বর্ণমণ্ডিত। সেখানে দেবী মহিষাসুরমর্দিনী রূপে সিংহবাহিনী এবং ওপরের অংশে শিবের প্রতিকৃতি খোদাই করা। ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার পর পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরি হয়। উদ্ভূত নিরাপত্তা সংকটের মুখে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তৎকালীন প্রধান পুরোহিত শ্রী হরিহর চক্রবর্তীর পরিবার ও সেবায়েতরা অত্যন্ত গোপনে বিমানে আদি প্রতিমাটি কলকাতায় নিয়ে যান। সেখানে রাজবাড়িতে কিছুকাল পূজার পর কলকাতার কুমারটুলির দুর্গাচরণ ব্যানার্জি স্ট্রিটে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মাতা’র মন্দির।

আদি প্রতিমা কলকাতায় স্থানান্তরিত হলেও ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ধর্মীয় মাহাত্ম্য বিন্দুমাত্র কমেনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী প্রাচীন এই মন্দির চত্বরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং সেবায়েতদের হত্যা করে। স্বাধীনতার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দির প্রাঙ্গণ নতুন করে সংস্কার করা হয় এবং আদি বিগ্রহের হুবহু অনুকরণে একটি নিখুঁত প্রতিরূপ ব্রোঞ্জ প্রতিমা নির্মাণ করে নতুন গর্ভগৃহে স্থাপন করা হয়। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় মন্দির’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

বর্তমানে দুর্গাপূজা ছাড়াও সারাবছর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে ধর্মীয় নানা উৎসব ও সামাজিক কর্মকাণ্ড মহা ধুমধামে উদযাপিত হয়। দেশের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক এই প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গোৎসবে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে। ইতিহাসের নানা রাজনৈতিক ভাঙাগড়া ও ভৌগোলিক সীমান্ত পেরিয়ে কলকাতা ও ঢাকা—উভয় বাংলার মানুষের হৃদয়ে ঢাকেশ্বরী দেবী শত শত বছর ধরে গভীর ধর্মীয় ভক্তি ও সম্প্রীতির সেতু হিসেবে দেদীপ্যমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন ও বিশেষ খবর
স্বত্বাধিকার ও উৎস বিবরণী

এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার প্রথম আলো-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সম্পূর্ণ খবর, লাইভ টিভি ও ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিন মাত্র ২ মিনিটে দেশের সব খবর জানুন ৬০ শব্দের স্মার্ট কার্ডে। বিজ্ঞাপনমুক্ত ক্লিন রিডার, ভয়েস ন্যারেটর এবং ২৪/৭ নিরবচ্ছিন্ন লাইভ টিভি চ্যানেল স্ট্রিমিং।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ