ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে জরুরি রোগী স্থানান্তর ও মরদেহ পরিবহন সেবা পুরোপুরি ব্যাহত হয়। হাসপাতাল এলাকায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ তীব্র সংকটে পড়েন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থায়ী পার্কিংয়ের সুনির্দিষ্ট দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে।
- মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির ফলে জরুরি রোগী স্থানান্তর ও মরদেহ পরিবহন সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
- আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বাইরে থেকে রোগী নিয়ে আসা কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সকে জোরপূর্বক হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ছাড়তে বাধ্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থায়ী পার্কিংয়ের জোরালো দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির ফলে দেশের বৃহত্তম এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। জরুরি মুহূর্তে রোগী স্থানান্তর এবং মৃত ব্যক্তির মরদেহ নিজ বাড়ি বা গন্তব্যে পরিবহনের সেবা পুরোপুরি ব্যাহত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ঢামেক চত্বরে অ্যাম্বুলেন্সগুলোর সুনির্দিষ্ট কোনো পার্কিং জোন না থাকায় যানবাহন চালক ও মালিকরা নানা হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন বলে অভিযোগ সমিতির। এরই প্রতিবাদে এবং স্থায়ী পার্কিংয়ের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার দাবিতে তারা এই কঠোর কর্মসূচির পথ বেছে নেন। তবে আকস্মিক এই কর্মবিরতির কারণে হাসপাতাল চত্বরে তীব্র অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়, যা স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতাতাদের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ধর্মঘট চলাকালীন সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হলে অ্যাম্বুলেন্স সংকটে তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আসা মানুষগুলো মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বাইরে থেকে আসা অন্যান্য অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতাল এলাকায় জরুরি সেবামূলক বাহনের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা থাকা অত্যন্ত জরুরি। অনতিবিলম্বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান না এলে বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।